সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিপর্যস্তদের মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটি Alleviation of Poverty and Empowerment of Poor স্লোগানকে ধারণ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সাবলম্বীতা অর্জনে ক্ষুদ্রঋণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
- ক)(1)
R. S. S. এর পূর্ণরূপ কি?
- খ)(2)
ক্ষুদ্রঋণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিকে চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগে যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
R.S.S.-এর পূর্ণরূপ হলো Rural Social Service (পল্লী সমাজসেবা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্রঋণ বলতে কোনো প্রকার জামানত ছাড়া সমাজের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সহজ শর্তে ও কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য অল্প পরিমাণ আর্থিক ঋণ প্রদানকে বোঝায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে ব্র্যাক (BRAC)-এর সামঞ্জস্য রয়েছে। স্যার ফজলে হাসান আবেদ মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন; শুরুতে এর নাম ছিল Bangladesh Rehabilitation Assistance Committee, পরে Bangladesh Rural Advancement Committee।
ব্র্যাক ত্রাণ থেকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দরিদ্র মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে বিস্তৃত হয়। তাই উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের ভিত্তিতে ব্র্যাককে চিহ্নিত করা যায়। তবে উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৭১ দেওয়া হলেও সংস্থার নিজস্ব ইতিহাসে ১৯৭২ উল্লেখ আছে—এই সালগত অসংগতি স্পষ্ট করে উত্তর দিতে হবে; সব তথ্য হুবহু মিলে গেছে বলা উচিত নয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের কর্মকাণ্ডে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ অত্যন্ত যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ।
সমাজকর্ম হলো একটি বিজ্ঞানসম্মত সাহায্যকারী পেশা, যা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। ব্র্যাকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো মূলত সমাজকর্মের মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতিসমূহের বাস্তব প্রতিফলন।
সমাজকর্মের আলোকে ব্র্যাকের কার্যক্রমের যৌক্তিকতা নিম্নরূপ:
১. ব্যক্তি সমাজকর্ম: ব্র্যাক ক্ষুদ্রঋণ ও অতিদরিদ্র কর্মসূচির মাধ্যমে একক ব্যক্তির সমস্যা চিহ্নিত করে তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করে, যা ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
২. দল সমাজকর্ম: ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম গ্রাম সংগঠন বা দল গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দলীয় মিথস্ক্রিয়া, সাপ্তাহিক সভা ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে দল সমাজকর্মের নীতির প্রয়োগ ঘটে।
৩. সমষ্টি সমাজকর্ম (সমষ্টি উন্নয়ন): গ্রামীণ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ব্র্যাক সমগ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করে, যা সমষ্টি উন্নয়নের বাস্তব রূপ।
৪. সক্ষমকারী ভূমিকা: সমাজকর্মের অন্যতম মূলনীতি হলো 'মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করা যাতে সে নিজেই নিজের সাহায্য করতে পারে'। ব্র্যাকের স্লোগান (দারিদ্র্য বিমোচন ও দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন) অনুদান নির্ভরতার বদলে স্বনির্ভরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।সুতরাং বলা যায়, ব্র্যাকের বহুমুখী আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমাজকর্ম পদ্ধতির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রয়োগ অত্যন্ত যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও