বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হোসেন মিয়া এক রহস্যময় চরিত্র। প্রথম জীবনে চাল-চুলোহীন অবস্থায় কেতুপুর গ্রামের জহর মাঝির বাড়িতে আশ্রয় নিলেও পরবর্তীকালে তিনি এই এলাকার বিশেষ একজন হয়ে ওঠেন। সকলকেই তিনি মিয়া বলে সম্বোধন করেন, কথা বলেন হাসিমুখে, এগিয়ে আসেন সবার বিপদে-আপদে। কিন্তু মনে তার অন্য চিন্তা। সবার অজান্তে অবৈধ ব্যবসায় করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল প্রতিপত্তি।
- ক)(1)
'নিরাক পড়া'- শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি'-উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের হোসেন মিয়া ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
“স্বার্থরক্ষায় উদ্দীপকের হোসেন মিয়া এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্র একই পথের পথিক।"- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ হলো শান্ত ভাব ধারণ করা বা বাতাস বন্ধ হওয়া কিংবা মেঘমুক্ত আকাশ থেকে প্রখর রোদ ছড়িয়ে পড়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি' উক্তিটি দ্বারা মোদাচ্ছের পীরের এলাকার মানুষের জীবনে বাস্তব খাদ্যাভাবের বিপরীতে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় কুসংস্কারের প্রাচুর্যকে বোঝানো হয়েছে।
যেখানে পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত ফসল নেই, অথচ মানুষের মধ্যে বাহ্যিক ধার্মিকতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা তীব্র—সেখানে ধর্মবোধ বিকৃত হয়ে কুসংস্কারে রূপ নেয়। এই অন্ধ ধর্মবিশ্বাসকে কোনো ইতিবাচক শক্তি হিসেবে নয়, বরং ক্ষতিকর ‘আগাছা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মানুষের সুস্থ বিবেক ও অগ্রগতিকে অবরুদ্ধ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হোসেন মিয়া ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের মধ্যে আশ্রয়হীন অবস্থা থেকে চতুরতার মাধ্যমে বিপুল প্রতিপত্তি অর্জন এবং বাইরের রূপের আড়ালে আসল স্বার্থ ঢেকে রাখার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ প্রথম জীবনে কপর্দকহীন অবস্থায় মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু একটি অজ্ঞাত মাজারকে ভিত্তি করে এবং ধর্মের ভয় ও মুখোশ ব্যবহার করে সে গ্রামের সবাইকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি হয়ে ওঠে। মুখে মিষ্টি কথা ও ধর্মের কথা বললেও তার অন্তরে কাজ করত আত্মস্বার্থ ও কর্তৃত্ব বজায় রাখার বাসনা।
উদ্দীপকের হোসেন মিয়াও একইভাবে প্রথম জীবনে নিঃস্ব হয়ে জহর মাঝির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে হাসিমুখে সবার সাথে ভালো ব্যবহার ও বিপদে পাশে থাকার ভান করলেও গোপনে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিপত্তি গড়ে তোলে। দুজনেরই বাইরে আপাত হিতৈষী আচরণ থাকলেও অন্তরে লুকিয়ে থাকে নিজস্ব কায়েমী স্বার্থ ও ভণ্ডামি। এই বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তারা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“স্বার্থরক্ষায় উদ্দীপকের হোসেন মিয়া এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্র একই পথের পথিক”— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ নিজের অস্তিত্ব রক্ষা, জীবিকা নির্বাহ এবং কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ধর্মকে ব্যবসার মতো ব্যবহার করেছে। মহব্বতনগর গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে পাপ ও দোযখের ভয় দেখিয়ে নিজের কব্জায় রেখেছে। খালেক ব্যাপারী বা আক্কাসের মতো কারও দ্বারা নিজের আধিপত্যে বিন্দুমাত্র আঁচ লাগার সম্ভাবনা দেখলেই সে কূটকৌশলে তাদের দমন করেছে। মজিদের পুরো কর্মকাণ্ডই পরিচালিত হয়েছে নিজের কায়েমী স্বার্থ রক্ষা করার তাগিদে।
অন্যদিকে উদ্দীপকের হোসেন মিয়াও নিজের বৈষয়িক সমৃদ্ধি ও প্রতিপত্তি গড়ে তুলতে মানুষের সহানুভূতি ও ভালোমানুষীর মুখোশ ধারণ করেছে। মুখে মিষ্টি বুলি আওড়িয়ে সে সবার বিশ্বাস অর্জন করেছে ঠিকই, কিন্তু গোপনে অবৈধ কাজ চালিয়ে নিজের সম্পদ ও স্বার্থকে সুরক্ষিত রেখেছে।
দেখা যায়, মজিদ ও হোসেন মিয়া দুজনের কৌশল বাহ্যত ভিন্ন (একজনের ধর্মবিশ্বাস, অন্যজনের সামাজিক কৃত্রিম সদাচার) হলেও তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিন্ন—নিজস্ব কায়েমী স্বার্থ, সম্পদ ও সামাজিক প্রতিপত্তি ধরে রাখা। এজন্য তারা প্রতারণা ও শঠতার পথ অবলম্বন করেছে। তাই স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে তারা নিঃসন্দেহে একই পথের পথিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও