বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।যে মোরে করিল পথের বিরাগী-পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,দীঘল রজনী তার তরে জাগি, ঘুম যে হরেছে মোর;আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
- ক)(1)
‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে কী বয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়?
- খ)(2)
কবি নিজেকে বেদুঈন বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কবির বক্তব্য বিষয়ের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বৈসাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মর্মকথারই প্রতিরূপ।”- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে সপ্ত নরক বা হাবিয়া দোজখ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেদুইনরা যেমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম, শাসন বা শৃঙ্খলের অধীন নয় এবং মরুভূমিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়, কবি নজরুলও তেমনই পরাধীনতা ও অন্যায়ের সব শৃঙ্খল ভেঙে মুক্ত জীবনের প্রতীক হিসেবে নিজেকে ‘বেদুঈন’ বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বক্তব্য বিষয়ের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রধান বৈসাদৃশ্য হলো ক্ষমাশীল শান্ত প্রেমময় মনোভাব বনাম অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুদ্র ও ধ্বংসাত্মক বিদ্রোহের প্রকাশ।
উদ্দীপকের কবি ক্ষমার পরাকাষ্ঠা ও প্রতিদানহীন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যে তাঁর ঘর ভেঙেছে, কবি তাঁর ঘর বেঁধে দেন এবং যে তাঁকে পর করেছে, তাকে আপন করতে ব্যাকুল হন—এটি চরম আত্মত্যাগ ও অহিংস প্রেমের রূপ।
পক্ষান্তরে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংহারক রূপ ধারণ করেছেন। সেখানে কবি ধ্বংসের নিশান উড়িয়েছেন, উৎপীড়কের অত্যাচারী খড়্গ স্তব্ধ না হওয়া পর্যন্ত রুদ্র মূর্তিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন। উদ্দীপকে রয়েছে পরোপকারী ও প্রেমময় অনুভূতির প্রকাশ, কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূল সুর হচ্ছে প্রলয়ঙ্কর বিদ্রোহ, প্রবল আত্মজাগরণ ও শক্তির আস্ফালন। এখানেই উভয় ভাবনার সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মর্মকথারই প্রতিরূপ”—মন্তব্যটি সার্বিকভাবে সঠিক নয়, বরং এর সত্যতা আংশিক ও সীমিত।
উদ্দীপকের মূল সুর মহত্ত্ব, পরম সহিষ্ণুতা, ক্ষমা ও অহিংস ভালোবাসা; যেখানে অনিষ্টকারীর কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে আত্মিক বিজয় খোঁজা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মর্মকথা হলো পরাধীনতা, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ, প্রচলিত অন্যায় ব্যবস্থার ধ্বংসসাধন এবং উৎপীড়িত মানবতার মুক্তি। সেখানে কবি নিজেকে ‘মহাপ্রলয়ের নটরাজ’, ‘সাইক্লোন’ ও ‘ধ্বংস’ হিসেবে উপস্থাপন করে অত্যাচারের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কবির এই সংহারী রূপ উদ্দীপকের শান্ত, ক্ষমাশীল ও আত্মত্যাগী স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত।
তবে গভীর অর্থে, 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির রুদ্র রূপের মূল লক্ষ্যও ছিল বিশ্বমানবতার চিরশান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা। কবি বলেছেন, “যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, / অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না— / বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত / আমি সেই দিন হব শান্ত।” এই মানবিক কল্যাণ ও বিশ্বপ্রেমের দিক থেকে দুটি চেতনার মধ্যে একটি পরোক্ষ আত্মিক সংযোগ থাকলেও, উদ্দীপকের অহিংস ক্ষমাশীল ভাব কখনোই 'বিদ্রোহী' কবিতার প্রচণ্ড প্রতিবাদী ও বিপ্লবী মর্মকথার পূর্ণ প্রতিরূপ হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও