ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব হোসেনের ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের গাড়িটি তার ছোট ভাই মনির ব্যবহার করেন, তাই মনির গাড়িটি বিমা করতে চাইলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান তা করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। অপরদিকে ঐ ঘটনা ঘটার দুই মাস পর জনাব হোসেন ঐ গাড়িটি রূপকথা ও ঝলক নামক দুটি বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট পৃথক পৃথক দুটি বিমাচুক্তি করেন। দুর্ঘটনায় গাড়িটির ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হলে জনাব হোসেন রূপকথার নিকট হতে ক্ষতিপূরণের টাকা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা আদায় করেন। অতঃপর আবার ঝলকের নিকট হতে একই দুর্ঘটনার জন্য অনুরূপ ক্ষতিপূরণের টাকা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা দাবি করলে ঝলক তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
নিট প্রিমিয়াম কী?
- খ)(2)
“জীবন বিমায় নৈতিক ঝুঁকি কম।”( ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মনিরের বিমা প্রস্তাবে বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের অস্বীকৃতি জানানোর কারণ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঝলক বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের বিমাদাবি প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো প্রকার পরিচালন বা প্রশাসনিক খরচ (লোডিং) যোগ না করে কেবলমাত্র প্রত্যাশিত ঝুঁকি ও সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে যে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়, তাকে নিট প্রিমিয়াম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব কারণে মানুষের অসততা, জালিয়াতি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতি সাধনের প্রবণতা তৈরি হয়, তাকে নৈতিক ঝুঁকি বলে। সাধারণ সম্পত্তিতে নিজের স্বার্থে ক্ষতি ঘটানোর আশঙ্কা থাকলেও জীবন বিমার ক্ষেত্রে মানুষ সচরাচর নিজের জীবন বা আপনজনের জীবন ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিতে ফেলে না। জীবনের প্রতি স্বাভাবিক মায়া ও মূল্যের কারণে এখানে প্রতারণামূলক ক্ষতির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তাই বলা হয়, জীবন বিমায় নৈতিক ঝুঁকি কম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মনিরের বিমা প্রস্তাবে বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের অস্বীকৃতি জানানোর কারণ হলো 'বিমাযোগ্য স্বার্থের' অভাব।
বিমাচুক্তির অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো বিমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable Interest)। বিমাকৃত বিষয়ের ওপর বিমাগ্রহীতার এমন আইনগত আর্থিক স্বার্থ থাকতে হবে, যাতে বিষয়বস্তুটি অক্ষত থাকলে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং তা বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়া বিমাচুক্তি আইনত বাতিল বা জুয়াখেলা হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের গাড়িটির প্রকৃত মালিক জনাব হোসেন, তার ভাই মনির কেবল গাড়িটি ব্যবহার করেন। ফলে গাড়ির মালিকানাগত কোনো আর্থিক বা আইনগত স্বার্থ মনিরের নেই; গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মূল আর্থিক ক্ষতি হবে হোসেনের, মনিরের নয়। যেহেতু বিমাকৃত সম্পত্তিতে মনিরের কোনো আইনগত বিমাযোগ্য স্বার্থ নেই, তাই বিমাকারী প্রতিষ্ঠান মনিরের বিমা প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ঝলক বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের বিমাদাবি প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং তা বিমার 'ক্ষতিপূরণের নীতি'র সাথে সংগতিপূর্ণ।
ক্ষতিপূরণের নীতি অনুসারে, বিমাগ্রহীতাকে কেবল তার প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়, বিমা করে কখনো অতিরিক্ত লাভ বা মুনাফা অর্জন করা যায় না। কোনো বিষয়বস্তু যদি একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিমা করা হয় (দ্বৈত বিমা), তবে প্রকৃত ক্ষতির ক্ষেত্রে সকল বিমাকারী আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ বহন করবে, অথবা কোনো এক প্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণ ক্ষতি আদায় করলে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আর দাবি করা যাবে না। অন্যথায় তা বিমার মূল নীতির পরিপন্থী হবে।
উদ্দীপকে জনাব হোসেন তার ৩০ লক্ষ টাকার গাড়ির জন্য 'রূপকথা' ও 'ঝলক' উভয় কোম্পানির কাছেই পৃথক পৃথক বিমাচুক্তি সম্পাদন করেন, যা দ্বৈত বিমা। পরবর্তীতে দুর্ঘটনায় গাড়িটির মোট ক্ষতি হয় ১০ লক্ষ টাকা। জনাব হোসেন ইতিমধ্যেই রূপকথা নামক প্রতিষ্ঠান থেকে তার ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থাৎ পুরো ১০ লক্ষ টাকাই আদায় করে নিয়েছেন। এর ফলে তার আর্থিক ক্ষতি সম্পূর্ণ পূরণ হয়ে গেছে। এখন ঝলকের নিকট হতে পুনরায় ১০ লক্ষ টাকা দাবি করার অর্থ হলো দুর্ঘটনা থেকে অন্যায্য মুনাফা লাভ করার চেষ্টা করা, যা বিমা আইনে অবৈধ।
অতএব, হোসেনের সম্পূর্ণ ক্ষতি পূরণ হয়ে যাওয়ায় ঝলক বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের বিমাদাবি প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও