জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদের তৈরিকৃত খাদ্য একটি বিশেষ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO2, H2O ও ATP তৈরি করে।

  1. ক)

    ফার্মেন্টেশন কী ?

    (1)
  2. খ)

    ফটোফসফোরাইলেশন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটির সর্বশেষ ধাপটির বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটিতে উৎপাদিত শক্তির হিসাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোনো জটিল জৈব যৌগ (যেমন গ্লুকোজ) অণুজীবের নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে অসম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন জৈব এসিড বা অ্যালকোহল ও গ্যাস উৎপন্ন করে, তাকে ফার্মেন্টেশন বা গাজন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সালোকসংশ্লেষণের আলোক নির্ভর পর্যায়ে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে এডিপি (ADP) ও অজৈব ফসফেটের (Pi) সংযোগে এটিপি (ATP) তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে। এটি দুই প্রকার: চক্রীয় ও অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন। সবাত শ্বসনের সর্বশেষ ধাপটি হলো ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (ETC) বা প্রান্তীয় শ্বসন। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:

    ১. স্থান: এটি মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিতে (Inner membrane) অবস্থিত।
    ২. ইলেকট্রন ও প্রোটনের প্রবাহ: পূর্ববর্তী ধাপগুলোতে (গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ তৈরি ও ক্রেবস চক্র) উৎপন্ন বিজারিত কো-এনজাইমসমূহ (NADH + H+ এবং FADH2) এই ধাপে জারিত হয়। এদের থেকে বিমুক্ত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিতে অবস্থিত কয়েকটি নির্দিষ্ট বাহক—যেমন এফএমএন (FMN), কো-এনজাইম কিউ (Co-Q), সাইটোক্রোম বি (Cyt-b), সাইটোক্রোম সি১ (Cyt-c1), সাইটোক্রোম সি (Cyt-c), সাইটোক্রোম এ (Cyt-a) এবং সাইটোক্রোম এ৩ (Cyt-a3)-এর মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে প্রবাহিত হয়।
    ৩. প্রান্তীয় গ্রাহক ও পানি উৎপাদন: চেইনের শেষ প্রান্তে ইলেকট্রন দুটিকে পরিবেশের আণবিক অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স থেকে দুটি প্রোটনের (H+) সাথে যুক্ত হয়ে এক অণু পানি (H2O) গঠন করে।
    ৪. অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন: ইলেকট্রন চলাচলের সময় নিঃসৃত শক্তি ব্যবহার করে প্রোটনগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স থেকে ইন্টার-মেমব্রেন ফাঁকা স্থানে পাম্প করা হয়। পরবর্তীতে এই প্রোটন মোটিভ ফোর্সের প্রভাবে ATP সিন্থেসিস এনজাইমের মাধ্যমে ADP ও অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে ATP সংশ্লেষিত হয়। ১ অণু NADH + H+ জারণে ৩ অণু ATP (বা আধুনিক মতে ২.৫ অণু) এবং ১ অণু FADH2 জারণে ২ অণু ATP (বা আধুনিক মতে ১.৫ অণু) উৎপন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন। ১ অণু গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণে উৎপাদিত শক্তির মোট হিসাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো (প্রচলিত বাংলাদেশ এইচএসসি পাঠ্যবই অনুসারে):

    ১. গ্লাইকোলাইসিস ধাপ:

    • প্রত্যক্ষ ATP: ৪ অণু উৎপন্ন হয় এবং ২ অণু ব্যয় হয়, ফলে অবশিষ্ট = ২ অণু ATP।
    • ২ অণু NADH + H+: প্রতিটিতে ৩টি করে ATP হিসেব করলে = ২ × ৩ = ৬ অণু ATP।
      (গ্লাইকোলাইসিস থেকে মোট = ৮টি ATP)

    ২. অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি ধাপ:

    • ২ অণু NADH + H+: ২ × ৩ = ৬ অণু ATP।
      (মোট = ৬টি ATP)

    ৩. ক্রেবস চক্র ধাপ:

    • প্রত্যক্ষ GTP/ATP: ২ অণু GTP = ২ অণু ATP।
    • ৬ অণু NADH + H+: ৬ × ৩ = ১৮ অণু ATP।
    • ২ অণু FADH2: ২ × ২ = ৪ অণু ATP।
      (ক্রেবস চক্র থেকে মোট = ২৪টি ATP)

    সর্বমোট শক্তির হিসাব:

    • প্রত্যক্ষভাবে উৎপন্ন নিট ATP = ২ + ২ = ৪টি ATP
    • বিজারিত যৌগ থেকে প্রাপ্ত ATP:
      • ১০টি NADH + H+ = ১০ × ৩ = ৩০টি ATP
      • ২টি FADH2 = ২ × ২ = ৪টি ATP
        সর্বমোট উৎপাদিত শক্তি = ৪ + ৩০ + ৪ = ৩৮ অণু ATP।
        (উল্লেখ্য, আধুনিক মতবাদ বা পি/ও অনুপাত অনুসারে ১ অণু NADH + H+ = ২.৫ ATP এবং ১ অণু FADH2 = ১.৫ ATP ধরলে মোট এটিপির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২ বা ৩০টি। তবে প্রচলিত পাঠ্যবই অনুযায়ী মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৩৮টি ATP)।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন