গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ : ১০০ গ্রাম সেমাই এ প্রোটিন ৮.৭ গ্রাম, চর্বি ০.৪ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৩ গ্রাম।
দৃশ্যকল্প-২ : মালেক এর রিক্সায় করে মিথিল কলেজে যায়। মালেকের বয়স ২৫ বছর, ওজন ৫২ কেজি। মিথিলের বয়স ১৭ বছর, ওজন ৫০ কেজি।
- ক)(1)
শক্তি কাকে বলে?
- খ)(2)
শারীরিক অবস্থা কীভাবে ক্যালরি চাহিদাকে প্রভাবিত করে?
- গ)(3)
সেমাই এর শক্তিমূল্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মালেক ও মিথিলের মধ্যে কার শক্তি চাহিদা বেশি? কত বেশি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, খাদ্য পরিপাক ও বিপাকের ফলে দেহে যে তাপ ও কর্মশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে শক্তি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তির শারীরিক বিভিন্ন বিশেষ অবস্থা যেমন— বৃদ্ধি, অসুস্থতা, গর্ভকালীন অবস্থা কিংবা দুগ্ধদানকালীন সময়ে ক্যালরির চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। শিশুর দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির সময় এবং কৈশোরে নতুন কোষ ও টিস্যু গঠনের জন্য অধিক ক্যালরির প্রয়োজন হয়। অনুরূপভাবে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশ ও মায়ের শারীরিক পরিবর্তনের জন্য এবং স্তন্যদানকালে দুধ উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত শক্তির দরকার হয়। পক্ষান্তরে, অসুস্থতায় বা স্বাস্থ্যহানির ক্ষেত্রে বিপাকীয় চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। এভাবে শারীরিক অবস্থা সরাসরি ক্যালরি চাহিদাকে প্রভাবিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম সেমাই-এ রয়েছে:
প্রোটিন = ৮.৭ গ্রাম
চর্বি = ০.৪ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট = ৭৪.৩ গ্রামআমরা জানি,
১ গ্রাম প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৪ কিলোক্যালরি
১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৯ কিলোক্যালরি
১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৪ কিলোক্যালরিঅতএব, ১০০ গ্রাম সেমাইয়ের শক্তিমূল্য:
প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৮.৭ × ৪ = ৩৪.৮ কিলোক্যালরি
চর্বি থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ০.৪ × ৯ = ৩.৬ কিলোক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৭৪.৩ × ৪ = ২৯৭.২ কিলোক্যালরিমোট শক্তিমূল্য = ৩৪.৮ + ৩.৬ + ২৯৭.২ = ৩৩৫.৬ কিলোক্যালরি।
সুতরাং, ১০০ গ্রাম সেমাই-এর শক্তিমূল্য ৩৩৫.৬ কিলোক্যালরি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মালেক ও মিথিলের মধ্যে মালেকের শক্তির চাহিদা বেশি।
যুক্তি:
ব্যক্তির দৈনিক শক্তির চাহিদা মূলত বয়স, শরীরের ওজন এবং কায়িক শ্রমের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী:
১. মালেকের বয়স ২৫ বছর এবং ওজন ৫২ কেজি। সে একজন রিকশাচালক, অর্থাৎ সে অতি পরিশ্রমী বা ভারী কায়িক শ্রমের কাজের সাথে যুক্ত। প্রাপ্তবয়স্ক ভারী পরিশ্রমী পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০-৫৫ কিলোক্যালরি শক্তি প্রয়োজন। ফলে ৫২ কেজি ওজনের মালেকের দৈনিক শক্তি চাহিদা দাঁড়ায় প্রায়:
৫২ × ৫৫ = ২৮৬০ কিলোক্যালরি (বা পাঠ্যপুস্তকের সাধারণ মানদণ্ড অনুযায়ী প্রায় ২৮০০-৩০০০ কিলোক্যালরি)।২. অপরদিকে, মিথিলের বয়স ১৭ বছর এবং ওজন ৫০ কেজি। সে একজন কলেজছাত্র এবং সে হালকা পরিশ্রমী বা উপবিষ্ট প্রকৃতির কাজ করে (রিকশায় করে যাতায়াত করে)। ১৭ বছর বয়সী কিশোর/তরুণের হালকা বা মাঝারি পরিশ্রমের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনে দৈনিক প্রায় ৪৪-৪৫ কিলোক্যালরি শক্তি প্রয়োজন। ফলে মিথিলের দৈনিক শক্তির চাহিদা দাঁড়ায় আনুমানিক:
৫০ × ৪৫ = ২২৫০ কিলোক্যালরি (বা সাধারণ মান অনুযায়ী প্রায় ২২০০-২৪০০ কিলোক্যালরি)।তুলনা ও শক্তির ব্যবধান:
মালেকের চাহিদা মিথিলের চেয়ে বেশি। গড়ে মালেকের চাহিদা মিথিলের চেয়ে প্রায় (২৮৬০ - ২২৫০) = ৬১০ কিলোক্যালরি (বা প্রায় ৫০০-৭০০ কিলোক্যালরি) বেশি।
অতএব, ভারী শারীরিক পরিশ্রমের কারণে মালেকের শক্তি চাহিদা মিথিলের চেয়ে বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও