ইতিহাস ১ম পত্র • ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৬০ সালে অসমিয়া ভাষাকে আসামের অফিসিয়াল ভাষা করার জন্য বিল পাসের সময় বাংলা ভাষাভাষীরা আন্দোলন করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৬১ সালের ১৯ মে হরতাল চলাকালে সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়।
- ক)(1)
কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়?
- খ)(2)
কোন কোন দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে পঠিত বিষয়ের যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে সে আন্দোলনের দুই জন শহিদের পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
'উত্ত আন্দোলন জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত'- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয় (নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৯৬ সালে এবং সম্পন্ন হয় ১৭০০ সালে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে প্রধানত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দলগুলো হলো:
১. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক প্রজা পার্টি (কৃষক শ্রমিক পার্টি),
৩. মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম এবং
৪. হাজী মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আসামের ভাষা আন্দোলনের ঘটনার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই আন্দোলনের দুই জন শহিদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
১. শহিদ রফিকউদ্দিন আহমদ: রফিকউদ্দিন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার পারিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেবেন্দ্র কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি প্রথম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন।
২. শহিদ বরকত: আবুল বরকতের পৈতৃক নিবাস ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায়। দেশভাগের পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ শেষ পর্বের ছাত্র ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে গুলিবর্ষণে মারাত্মক আহত হয়ে ঐ দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল জাতীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি অর্জন করেছে—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে বাঙালি ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। পৃথিবীতে মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের এমন নজির বিরল। এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটেছিল, তা পরবর্তীকালে স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করে।
বাঙালির এই অনন্য আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা 'ইউনেস্কো' (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এর ফলে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়ে আসছে। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই স্বীকৃতি বাঙালি জাতির আত্মত্যাগকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। সুতরাং, আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও