যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
মুশফিক তার বন্ধু ফারহানের নিকট পরামর্শ চাইল কোন পেশায় গেলে সফল মানুষ হওয়া যাবে। ফারহান বললো, যে কোনো বিষয়েরই কিছু নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি এবং নিয়ম-কানুন রয়েছে প্রথমেই তা তোমাকে জানতে হবে। ফারহানের কথা শুনে মুশফিক বললো, যে কোনো বিষয়ের কেবলমাত্র পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন জানলেই হবে না, সেই সাথে উক্ত পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন বাস্তবে প্রয়োগ করার সুশৃঙ্খল কৌশল জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কী?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ফারহানের বক্তব্যে নির্দেশিত বিষয়টির সাথে যুক্তিবিদ্যা কীভাবে সম্পর্কিত তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মুশফিক ও ফারহানের বক্তব্যে নির্দেশিত বিষয়টির সাথে যুক্তিবিদ্যার পারস্পারিক সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা হলো বৈধ যুক্তিপদ্ধতি এবং অবৈধ যুক্তিপদ্ধতির মধ্যকার পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত নীতি ও নিয়মাবলির বিজ্ঞান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিজ্ঞান কোনো একটি আদর্শকে সামনে রেখে সত্য ও সুন্দরের মূল্যায়নে ব্যাপৃত থাকে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য বা আদর্শ হলো সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যা বা ভ্রান্তিকে পরিহার করা। এটি কেবল বস্তু বা চিন্তার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করে না, বরং সঠিক চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে সত্যতা বিচারের মাপকাঠি প্রদান করে। এজন্য যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফারহানের বক্তব্যটি কোনো বিষয়ের সুশৃঙ্খল নিয়ম ও তাত্ত্বিক কাঠামো জানার ওপর জোর দেয়, যা মূলত 'বিজ্ঞান'-এর বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে এবং যুক্তিবিদ্যা যে একটি বিজ্ঞান, তার সাথে এটি সরাসরি সম্পর্কিত।
বিজ্ঞান হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান, কারণ এটি চিন্তার সাধারণ নিয়ম ও অনুমানের সঠিক পদ্ধতিগুলো আবিষ্কার করে এবং এদের শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যাখ্যা প্রদান করে। ফারহান যেমন বলেছে, যে কোনো বিষয়ের নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন প্রথমেই জানতে হয়, যুক্তিবিদ্যাও তেমনি সঠিক চিন্তার বৈধতা বিচার ও সত্য অনুসন্ধানের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সাধারণ নিয়ম ও নীতি তাত্ত্বিকভাবে উপস্থাপন করে। সুতরাং, ফারহানের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞানভিত্তিক রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফারহানের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার 'বিজ্ঞান' রূপ এবং মুশফিকের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার 'কলা' রূপ নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যা একাধারে বিজ্ঞান ও কলা—উভয়ের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই সমন্বিত রূপটি প্রকাশ পেয়েছে।
বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা বৈধ চিন্তার সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়ন করে। ফারহানের কথায় এই তাত্ত্বিক ভিত্তিটির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে, কারণ নিয়ম না জানলে সত্য নির্ণয় অসম্ভব। অপরদিকে কলাবিদ্যা হলো অর্জিত তত্ত্ব বা জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে নিপুণতার সাথে প্রয়োগের কৌশল। মুশফিক নিয়ম জানার পাশাপাশি তা বাস্তবে প্রয়োগ করার কৌশলের ওপর জোর দিয়েছে, যা যুক্তিবিদ্যার ব্যবহারিক বা কলাবিদ্যার দিকটি তুলে ধরে। যুক্তিবিদ্যা কেবল চিন্তার নিয়মাবলি তাত্ত্বিকভাবে শেখায় না, বরং সেই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে প্রাত্যহিক জীবনে সঠিক যুক্তি গঠন ও যুক্তির ভুলত্রুটি (অনুপপত্তি) পরিহারের কৌশলও শিক্ষা দেয়।
যুক্তিবিদ্যায় তত্ত্ব (বিজ্ঞান) এবং প্রয়োগ (কলা) অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শুধু নিয়ম জানলে প্রয়োগের নিশ্চয়তা থাকে না, আবার তাত্ত্বিক জ্ঞান ছাড়া সঠিক প্রয়োগ সম্ভব নয়। সুতরাং, ফারহান ও মুশফিকের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা—এই উভয় বৈশিষ্ট্যের এক অবিচ্ছেদ্য পারস্পরিক সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও