ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধিকার আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মি.ফ্লেচার একজন স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন। তিনি জনসাধারণের মৌলিক অধিকার হরণ করেন। নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য একটি লোক দেখানো নির্বাচন আয়োজন করেন। এই নির্বাচনে মাত্র অল্প কিছু লোক ভোট দিতে পারতো। এর ফলে মি. ফ্লেচারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হয় এবং তার পতন ঘটে।
- ক)(1)
ড. শামসুজ্জোহা কে ছিলেন?
- খ)(2)
তাসখন্দ চুক্তি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. ফ্লেচারের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডই তার পতনের জন্য দায়ী ছিল- উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ড. শামসুজ্জোহা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক এবং তৎকালীন প্রক্টর, যিনি ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ১৭ দিনব্যাপী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, যা 'তাসখন্দ চুক্তি' নামে পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং উভয় দেশ সৈন্য প্রত্যাহারসহ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার বিষয়টিকে এতে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. ফ্লেচারের সাথে পাঠ্যবইয়ের পাকিস্তানের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খানের মিল রয়েছে।
আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করেন। নিজের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তিনি ১৯৫৯ সালে 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি সীমিত ভোটাধিকারভিত্তিক পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে মাত্র ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্যের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেন। উদ্দীপকেও দেখা যায়, মি. ফ্লেচার জনগণের অধিকার হরণ করে সীমিত ভোটের এক লোকদেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন, যার ফলে জনরোষের মুখে তাঁর পতন ঘটে। অতএব, এই শাসনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মি. ফ্লেচারের সাথে আইয়ুব খানের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডই তাঁর পতনের প্রধান কারণ ছিল—মন্তব্যটি যথার্থ।
আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের সংবিধানে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মৌলিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্যাতন চালান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্ধ করেন এবং পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে চরম বৈষম্যের শিকার করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবিকে দমন করার লক্ষ্যে তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন।
এইসব দমন-পীড়নমূলক পদক্ষেপের ফলে বাঙালি জনগণ তথা সমগ্র পাকিস্তানের গণমানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর ফলে ছাত্র সমাজের ১১ দফা ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়। আসাদ, মতিউর ও ড. জোহার রক্তের বিনিময়ে এই আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সুতরাং তাঁর একনায়কতান্ত্রিক নীতি ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডই তাঁর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও