ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রসুলপুর এলাকার কয়েকজন যুবক একটি সমিতি গঠন করেন। তাদের এই মহৎ উদ্যোগ সফল হয় এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
- ক)(1)
কত সালে মহানবি (স) নবুয়তপ্রাপ্ত হন?
- খ)(2)
বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সমিতি প্রাচীন আরবের কোন সংগঠনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সংগঠনের কার্যাবলি সম্পাদনে মহানবি (স)-এর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স) ৬১০ খ্রিস্টাব্দে নবুয়তপ্রাপ্ত হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়তুল মাল হলো ইসলামি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার।
ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের যাবতীয় রাজস্ব ও সম্পদ যেমন—জাকাত, জিজিয়া, খারাজ, উশর, গণিমতের এক-পঞ্চমাংশ এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয় বায়তুল মালে জমা হতো। এই অর্থ পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনা, জনকল্যাণ, প্রতিরক্ষা ও দরিদ্র জনগণের সাহায্যের জন্য ব্যয় করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সমিতি প্রাচীন আরবের শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’কে নির্দেশ করে।
ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তক্ষয় ও নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করে আরবের শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁর পিতৃব্য যুবায়েরের সহায়তায় একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন, যা ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে পরিচিত। এর লক্ষ্য ছিল সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, অত্যাচারীকে দমন করা, মজলুমকে সাহায্য করা এবং বহিরাগত বণিকদের নিরাপত্তা দেওয়া।
উদ্দীপকে রসুলপুর এলাকার যুবকদের নিজ এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও হানাহানি বন্ধ করে শান্তি-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে গঠিত সমিতির উদ্দেশ্য হিলফুল ফুজুলের মূলনীতির সাথে হুবহু মিলে যায়। অতএব, এটি প্রাচীন আরবের ‘হিলফুল ফুজুল’ সংগঠনকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিলফুল ফুজুল সংগঠনের কার্যাবলি সম্পাদন ও বাস্তবায়নে মহানবি (স.)-এর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনন্য।
মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে মহানবি (স.) যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও অরাজকতায় মর্মাহত হয়ে এই শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠায় প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিজে শপথ গ্রহণ করেন এবং সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে আজীবন নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। তিনি মক্কার দুর্বল, অসহায়, এতিম ও নির্যাতিতদের অধিকার রক্ষায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন এবং বহিরাগত ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
মহানবি (স.)-এর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে মক্কায় যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সামাজিক অবিচার বন্ধ ছিল। তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সক্রিয় উদ্যোগের ফলেই সংগঠনটি সফলভাবে আরবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। এমনকি নবুয়ত লাভের পরও তিনি গর্বের সাথে বলতেন যে, এমন মহৎ চুক্তির আহ্বান পেলে তিনি ইসলাম যুগেও সাড়া দিতেন। সুতরাং, হিলফুল ফুজুলের লক্ষ্য অর্জনে মহানবি (স.)-এর কৃতিত্ব ছিল অবিস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও