‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

জয়নগর একটি উন্নত অঞ্চল। এখানে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির ফলে অনেক অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে ব্যবসার জন্য আসে। উক্ত ব্যবসায়ীদের একটি দল অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। তারা জয় নগরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং অঞ্চলটিতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

  1. ক)

    আলীবর্দী খান কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    আলীনগরের সন্ধি কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যবইয়ের উক্ত যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আলীবর্দী খান ছিলেন বাংলার একজন স্বাধীন ও দূরদর্শী নবাব (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রি.)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৫৭ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে 'আলীনগরের সন্ধি' বলা হয়।

    ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের বিতাড়িত করে কলকাতার নাম রাখেন 'আলীনগর'। পরবর্তীতে ক্লাইভ ও ওয়াটসন যৌথভাবে কলকাতা পুনর্দখল করলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ইংরেজদের সাথে এই সন্ধি করতে বাধ্য হন, যার মাধ্যমে কোম্পানি বাণিজ্য সুবিধা ফিরে পায় এবং কলকাতায় দুর্গ নির্মাণের অনুমতি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি আমার পাঠ্যবইয়ের ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলায় আগমন, ষড়যন্ত্র এবং পলাশীর যুদ্ধের পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ভারতে বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় এবং তারা বাংলায় অনুকূল বাণিজ্যিক পরিবেশ দেখে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসার পর এই বণিক গোষ্ঠী নবাবের অভ্যন্তরীণ শত্রু যেমন মীর জাফর, ঘসেটি বেগম এবং উমিচাঁদ-জগৎ শেঠদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। উদ্দীপকে জয়নগরে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এসে ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী দলের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঞ্চলের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা ঠিক একইভাবে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশীর যুদ্ধ সংঘটনের মাধ্যমে বাংলার ক্ষমতা দখলের পদক্ষেপের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাঠ্যবইয়ের উক্ত যুদ্ধটি হলো ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন সংঘটিত ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ', যার ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং বাংলার স্বাধীনতার জন্য এক বিরাট বিপর্যয়।

    প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত ও পরে নির্মমভাবে নিহত হন। এর মাধ্যমে বাংলার প্রায় দুইশত বছরের স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজদের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বার উন্মোচিত হয়।

    দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ জয়ের পর ইংরেজরা পুতুল নবাব হিসেবে মীর জাফরকে ক্ষমতায় বসায় এবং পরবর্তীতে মীর কাশিমকেও ব্যবহার করে। কার্যত প্রকৃত ক্ষমতার চাবিকাঠি চলে যায় রবার্ট ক্লাইভ তথা কোম্পানির হাতে।

    তৃতীয়ত, অর্থনৈতিকভাবে বাংলায় অবাধ লুণ্ঠন শুরু হয়। কোম্পানি একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার লাভ করে এবং প্রচুর ধনসম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে, যা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।

    পরিশেষে, পলাশীর যুদ্ধ কেবল একটি শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল ভারতবর্ষ তথা সমগ্র বাংলায় প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দাসত্বের সূচনা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন