সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

পৃথিবীতে একটি জাতি আছে, যারা ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে। এমনকি শোষকের শাসন, শোষণ, নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে। গিয়ে বুলেটবিদ্ধ হয়েছে বারবার। কিন্তু তারা মাথা নত করেনি। এক সময় তারা স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছে।'

  1. ক)

    যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কত সালে হয়?

    (1)
  2. খ)

    অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    ভাষা আন্দোলন' বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে কীভাবে ভূমিকা। রেখেছে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনের ফসল নয়'- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক নিরস্ত্র, নিরীহ বাঙালিদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত, পরিকল্পিত ও নৃশংস গণহত্যা এবং দমন অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি ও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।

    ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের প্রথম উপলব্ধি করায় যে ধর্মীয় অভিন্নতার চেয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্য অনেক বেশি শক্তিশালী। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্য ও উর্দু ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেন।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি জাতি ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে এবং শোষকের বিরুদ্ধে বুলেটবিদ্ধ হয়েও মাথা নত করেনি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির মধ্যে যে আত্মপরিচয় ও অধিকারচেতনা জাগ্রত হয়, তা পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি রচনা করে। এভাবে ভাষা আন্দোলনই বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনের ফসল নয়'- উক্তিটি ঐতিহাসিক বাস্তবতায় অত্যন্ত যথার্থ, যা উদ্দীপকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে প্রতিভাত হয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক দিক থেকে শোষিত হতে থাকে। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে—শোষকের নির্যাতন প্রতিহত করতে গিয়ে বাঙালি বারবার বুলেটবিদ্ধ হয়েছে, তেমনি বাস্তবেও ধাপে ধাপে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির পথ সুগম হয়েছে।

    স্বাধীনতার এই পটভূমি পর্যায়ক্রমে রচিত হয়েছিল:
    ১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যা অধিকার আদায়ের চেতনা সৃষ্টি করে;
    ২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির রাজনৈতিক বিজয়;
    ৩. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন;
    ৪. ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, যা ছিল বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা';
    ৫. ১৯৬৯ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান;
    ৬. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়;
    ৭. সবশেষে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত চূড়ান্ত বিজয়।

    অতএব, দীর্ঘ চব্বিশ বছরের নিরবচ্ছিন্ন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যা কোনো তাৎক্ষণিক বা একদিনের ঘটনা নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন