সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মানব শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন অন্যান্য প্রাণীর (গরু- হার) সাথে তার মৌলিক পার্থক্য খুব কম। কিন্তু শিশুটি যত বড় হতে থাকে অন্যান্য প্রাণী থেকে তার মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং পার্থক্য ক্রমশ প্রকট হয়ে ওঠে। এ পার্থক্যের মূলে সামাজিক শিক্ষা গুৰুত্বপূৰ্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজই তাকে সামাজিক করে তোলে। তাই এটি জন্ম থেকে শুরু হয়ে বিরামহীনভাবে ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত চলে।
- ক)(1)
জাতিসম্পর্ক কী?
- খ)(2)
দাসপ্রথা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের কোন প্রক্রিয়াটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটির মাধ্যমসমূহের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতিসম্পর্ক (বা জ্ঞাতিসম্পর্ক) হলো রক্ত, বিবাহ বা দত্তক গ্রহণের ভিত্তিতে সৃষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যকার পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক বা আত্মীয়তার বন্ধন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দাসপ্রথা হলো সামাজিক অসমতার এমন এক চরম ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, যেখানে একজন মানুষ অপর একজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হতো। এ প্রথায় একজন মানুষ বা প্রভু অপর একজন মানুষের (দাস) ওপর পূর্ণ মালিকানা পেত এবং দাসদের কোনো নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা বা সামাজিক মর্যাদা থাকত না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের 'সামাজিকীকরণ' (Socialization) প্রক্রিয়াটির ইঙ্গিত রয়েছে।
যে জীবনব্যাপী শিখন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবশিশু সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, রীতিনীতি, বিশ্বাস, আচার-আচরণ আয়ত্ত করে সমাজের একজন পূর্ণাঙ্গ ও যোগ্য সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে, তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জন্মলগ্নে মানবশিশু ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে খুব কম পার্থক্য থাকলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে মানবশিশু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। সমাজই তাকে নানা শিক্ষাদানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মানুষে পরিণত করে এবং এ প্রক্রিয়া জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য সমাজবিজ্ঞানের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই উদ্দীপকে সামাজিকীকরণেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো 'সামাজিকীকরণ'। মানুষের সামাজিক জীবনে সামাজিকীকরণের বাহন বা মাধ্যমসমূহের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে এই মাধ্যমগুলোর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পরিবার: সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান বাহন হলো পরিবার। পরিবার থেকেই শিশু স্নেহ, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রাথমিক ভাষা শেখে, যা তার ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি তৈরি করে।
২. সমবয়সী দল বা খেলার সাথী: খেলার সাথী ও সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব এবং পারস্পরিক সমঝোতার গুণাবলি অর্জন করে।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু আনুষ্ঠানিক শিক্ষালাভের পাশাপাশি নিয়মানুবর্তিতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, পরমতসহিষ্ণুতা এবং জাতীয়তাবোধের শিক্ষা পায়।
৪. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: মসজিদ, মন্দির, চার্চ ইত্যাদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির নীতি-নৈতিকতা, সততা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে।
৫. গণমাধ্যম: সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া সমাজের নতুন নতুন তথ্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়ে ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত ও আধুনিক করে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত বিভিন্ন মাধ্যমগুলোর সমন্বিত প্রভাবেই একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ ও আদর্শ সামাজিক সত্তায় রূপ লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও