কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিয়াজ তার বাবার সাথে মাছের বাজারে এসে বড় একটা বুই মাছ পছন্দ করল। তার বাবা বললেন, এ মাছ কেনা যাবে না। কারণ মাছের গায়ে কোনো লালা নেই এবং এ ধরনের মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরো বললেন, মাছটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা দরকার ছিল।
- ক)(1)
রাক্ষুসে মাছ কী?
- খ)(2)
চিংড়িকে নিশাচর বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নিয়াজের বাবা কীভাবে বুঝলেন, মাছটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি-ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"মাছটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা দরকার ছিল" মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মাছ অন্যান্য ছোট মাছ, কীটপতঙ্গ ও জলজ প্রাণীদের শিকার করে জীবনধারণ করে, তাদের রাক্ষুসে মাছ বলে (যেমন: বোয়াল, শোল, গজার ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিংড়ি দিনের বেলা সাধারণত জলাশয়ের তলদেশে মাটি বা জলজ উদ্ভিদের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলায় সক্রিয় হয়ে খাদ্যের সন্ধানে বিচরণ করে। রাতের অন্ধকারে খাদ্য গ্রহণ ও চলাচলের এই বিশেষ স্বভাবের কারণেই চিংড়িকে নিশাচর প্রাণী বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নিয়াজের বাবা মাছের বাহ্যিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পেরেছিলেন যে মাছটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বা এটি বাসি/পচা।
তিনি যেসকল লক্ষণ দেখে তা বুঝেছিলেন:
১. তাজা মাছের গায়ে স্বাভাবিক পিচ্ছিল লালা বা শ্লেষ্মা থাকে। উদ্দীপকের মাছটির গায়ে কোনো লালা ছিল না, যা মাছটি দীর্ঘদিন অযত্নে থাকার বা রাসায়নিক ব্যবহারের লক্ষণ।
২. সঠিক বরফায়ন বা হিমাগারে সংরক্ষণ না করলে মাছের আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায় এবং মাছ শক্ত ও খসখসে হয়ে পড়ে।
৩. সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করার ফলে মাছের গুণগত মান নষ্ট হয়ে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছিল। এসব বাহ্যিক অবক্ষয় দেখে তিনি মাছটির ত্রুটিপূর্ণ সংরক্ষণ অবস্থা চিহ্নিত করেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মাছটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা দরকার ছিল"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. গুণগত মান রক্ষা: মাছ ধরার পর দ্রুত সংরক্ষণ না করলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও এনজাইমের ক্রিয়ায় মাছ দ্রুত পচতে শুরু করে। সঠিকভাবে বরফায়ন করলে মাছের স্বাদ, পুষ্টিমান ও সতেজতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
২. রোগজীবাণু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাছটি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাসি ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা মাছ খেলে খাদ্য বিষক্রিয়া (Food poisoning), পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে।
৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ: মাছ পচে গেলে বা মানহীন হয়ে পড়লে তা ক্রেতার কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারায়, যার ফলে বিক্রেতা ও খামারি আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।
৪. সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতির ব্যবহার: মাছ ধরার পরপরই পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ১:১ অনুপাতে গুঁড়ো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করলে মাছ দীর্ঘ সময় তাজা থাকে।সুতরাং, পুষ্টিমান বজায় রাখা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো এবং আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাছটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা একান্ত অপরিহার্য ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও