যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

সিরাজ সাহেব ছুটির দিনে তার দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে ঘোড়া গাড়ি করে বেড়াতে বের হলেন। তার বড় ছেলে রাফি বলল, ঘোড়া হচ্ছে কেশরপুচ্ছবিশিষ্ট এক প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রাণী। একথা শুনে তার ছোট ভাই শাফি বলল, ঘোড়া হচ্ছে পালকবিহীন চতুষ্পদী গৃহপালিত প্রাণী। এ ব্যাপারে সিরাজ সাহেব বললেন, ঘোড়া হচ্ছে সম্ভ্রান্ত প্রাণী।

  1. ক)

    নেতিবাচক সংজ্ঞা কী?

    (1)
  2. খ)

    যৌক্তিক সংজ্ঞায় অনুপপত্তি ঘটে কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সিরাজ সাহেবের বক্তব্য কোন ধরনের অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রাফি ও শাফির বক্তব্যে নির্দেশিত বিষয়টি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মাবলির আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যখন কোনো পদের সংজ্ঞা ইতিবাচকভাবে না দিয়ে 'নয়' বা 'না' সূচক শব্দের মাধ্যমে কোনো গুণের অনুপস্থিতি দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে নেতিবাচক বা নঞর্থক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞার ৫টি মূল নিয়ম রয়েছে। কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়ার সময় যদি সংজ্ঞাদাতা এই প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলোর কোনো একটি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হন বা লঙ্ঘন করেন, তবে সংজ্ঞায় যুক্তিদোষ সৃষ্টি হয়। এই যুক্তিদোষ বা ত্রুটিকেই যৌক্তিক সংজ্ঞার অনুপপত্তি বলা হয়। যেমন—জাত্যর্থের চেয়ে অতিরিক্ত বা কম গুণ উল্লেখ করলে, রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করলে অনুপপত্তি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সিরাজ সাহেবের বক্তব্য 'রূপক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়ার সময় কোনো রূপক, অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না; সংজ্ঞাটি সবসময় সহজ, স্পষ্ট ও অর্থবহ হতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে যদি সংজ্ঞায় রূপক ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে 'রূপক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি ঘটে।

    উদ্দীপকে সিরাজ সাহেব ঘোড়ার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, "ঘোড়া হচ্ছে সম্ভ্রান্ত প্রাণী।" এখানে 'সম্ভ্রান্ত' শব্দটি একটি রূপক বা আলংকারিক শব্দ, যা ঘোড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট জাত্যর্থ প্রকাশ করে না। ঘোড়া কীভাবে সম্ভ্রান্ত, তা সংজ্ঞার স্পষ্টতা বৃদ্ধি না করে বরং বিষয়টিকে আরও অস্পষ্ট ও রূপকধর্মী করে তুলেছে। অতএব, সিরাজ সাহেবের বক্তব্যটি রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাফি ও শাফির বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে যথাক্রমে 'অতিব্যাপক/অবান্তর সংজ্ঞা' এবং 'নঞর্থক সংজ্ঞা' অনুপপত্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞায় পদের সমগ্র জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে, বেশি বা কম উল্লেখ করা যাবে না। রাফি বলেছে, "ঘোড়া হচ্ছে কেশরপুচ্ছবিশিষ্ট এক প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রাণী।" এখানে 'কেশরপুচ্ছ' এবং 'প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তা' ঘোড়ার মৌলিক জাত্যর্থ নয়। এটি ঘোড়ার অবান্তর লক্ষণ বা অসঙ্গত গুণের আরোপ। এর ফলে সংজ্ঞার যথার্থ জাত্যর্থ লঙ্ঘিত হয়ে অবান্তর গুণের অবতারণা হয়েছে।

    অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়মানুসারে, কোনো পদের সদর্থক বা ইতিবাচক সংজ্ঞা সম্ভব হলে কখনোই নঞর্থক বা নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। শাফি ঘোড়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, "ঘোড়া হচ্ছে পালকবিহীন চতুষ্পদী গৃহপালিত প্রাণী।" এখানে 'পালকবিহীন' শব্দটির মাধ্যমে শাফি একটি নেতিবাচক বা নঞর্থক ধারণা ব্যবহার করেছে, যেখানে ঘোড়ার ইতিবাচক রূপ ও আসন্নতম জাতি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব ছিল। ইতিবাচক সংজ্ঞার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেতিবাচক গুণের মাধ্যমে পদটিকে সংজ্ঞায়িত করায় এখানে 'নঞর্থক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি ঘটেছে।

    সুতরাং, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, রাফি সংজ্ঞার জাত্যর্থের নিয়ম লঙ্ঘন করে অবান্তর গুণ যুক্ত করেছে এবং শাফি সদর্থক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে নঞর্থক বৈশিষ্ট্য প্রয়োগ করে সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন