ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

মাওলানা নাজমুল হোসাইন এক মিলাদ মাহফিলে বলেন, “কবিরা গুনাহ জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। এমনকি, যারা প্রকাশ্যে কবিরা গুনাহ করে, তারা ইসলামি আদালতে সাক্ষ্যদানে যোগ্যতাও হারায়। এ ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন। যেমন- হযরত আবু বকর (রা.)-এর খলিফা নির্বাচনে সকল সাহাবি একমত হন। তখন জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, “এ ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য না হওয়ার বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই।” কুরআন ও হাদিসের বাইরে কোনো আমল করা, মুসলমানদের জন্য আবশ্যক  নয় ।

  1. ক)

    'ইজতিহাদ' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।”-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা নির্বাচন কোন ধরনের ইজমা? তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনৈক ব্যক্তির বক্তব্য তুমি কি সমর্থন কর? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘ইজতিহাদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো কাজ সম্পাদনে পূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োগ করা বা কঠোর প্রচেষ্টা চালানো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র” কথাটির অর্থ হলো, মানুষ দুনিয়ায় যেমন কাজ করবে, আখিরাতে তেমনই ফল ভোগ করবে। কৃষক যেমন মাঠে ফসল বুনে যত্ন নিলে ভালো ফসল লাভ করে, অবহেলা করলে ক্ষতি হয়; তেমনি দুনিয়ার জীবনে মানুষ নেক আমল করলে আখিরাতে জান্নাত পাবে এবং পাপ কাজ করলে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। অর্থাৎ আখিরাতের সাফল্য সম্পূর্ণরূপে দুনিয়ার আমলের ওপর নির্ভরশীল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা নির্বাচন হলো ‘ইজমায়ে কওলি’ বা ‘স্পষ্ট ইজমা’ (ইজমায়ে সরিহ)।

    ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগের মুজতাহিদগণের কোনো ধর্মীয় বা শরয়ি বিষয়ে একমত পোষণ করাকে ইজমা বলে। যে ইজমায় সংশ্লিষ্ট সকল মুজতাহিদ বা সাহাবি স্পষ্টভাবে মৌখিক বক্তব্যের মাধ্যমে বা সরাসরি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁদের সহমত প্রকাশ করেন, তাকে ইজমায়ে কওলি বা সরিহ বলে।

    উদ্দীপকে হযরত আবু বকর (রা.)-কে খলিফা নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে, যা মহানবি (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছিল। সাকিফায়ে বনি সায়েদায় সাহাবিগণ স্পষ্টভাবে মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে ঐকমত্যে পৌঁছেন। এটি ছিল সাহাবিগণের স্পষ্ট বা কওলি ইজমা, যা শরিয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকে বর্ণিত জনৈক ব্যক্তির বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি না।

    ইসলামি শরিয়তের উৎস মূলত চারটি: আল-কুরআন, সুন্নাহ (হাদিস), ইজমা ও কিয়াস। কুরআন ও সুন্নাহ শরিয়তের মৌলিক উৎস হলেও মানবজীবনের উদ্ভূত নানা সমস্যার সমাধানে কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে সমাধান গ্রহণ করাও মুসলমানদের জন্য আবশ্যক। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, “হে মুমিনগণ! আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্য হতে ন্যায়পরায়ণ শাসক/আলেমদের।” (সুরা আন-নিসা: ৫৯)। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না।” (তিরমিজি)।

    উদ্দীপকের ব্যক্তি দাবি করেছে যে কুরআন ও হাদিসের বাইরে কোনো আমল করা আবশ্যক নয় এবং আলেমদের ঐকমত্য (ইজমা) গ্রহণযোগ্য নয়—তার এই দাবি শরিয়তসম্মত নয়। প্রকাশ্যে কবিরা গুনাহকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ না করার ব্যাপারে উম্মাহর আলেমগণ যে ইজমা বা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, তা কুরআন ও সুন্নাহর সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার নীতির আলোকেই প্রতিষ্ঠিত। শরিয়তের স্বীকৃত তৃতীয় উৎস ‘ইজমা’কে অস্বীকার করা ইসলামি মূলনীতির পরিপন্থী।

    অতএব, ঐ ব্যক্তির অভিমত ভুল ও বিভ্রান্তিকর; কুরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি ইজমা অনুযায়ী আমল করাও মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন