কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রনি মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত বেকার যুবক। সে হাঁসের খামার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাকে মিশ্র খামার স্থাপনের পরামর্শ দেন। তিনি একটি হাঁসের জাতের কথা বললেন যা বছরে ২৫০-৩০০টির মতো ডিম দেয়। মিশ্র খামারের জন্য। তিনি গরু মোটাজাতকণেরও পরামর্শ দেন। রনি যথাযথভাবে পরামর্শ। মেনে চলায় অল্প দিনের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে যায়।
- ক)(1)
পুলেট কী?
- খ)(2)
দুধ পাস্তুরিকরণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রনিকে কোন জাতের হাঁস পালন করতে বললেন? এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।
- ঘ)(4)
"দারিদ্র বিমোচনে প্রাণিসম্পদ যথোপযুক্ত"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিম উৎপাদনকারী মুরগির বাচ্চা ফোটার পর থেকে ডিম পাড়ার পূর্ব পর্যন্ত বয়সকে (সাধারণত ৫ থেকে ২০-২২ সপ্তাহ বয়সী বাড়ন্ত স্ত্রী মুরগিকে) পুলেট (Pullet) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুধ পাস্তুরিকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুধের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে এর মধ্যে থাকা রোগসৃষ্টিকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা। পাস্তুরিকরণের ফলে দুধের পচনকারী অণুজীবসমূহের বৃদ্ধি প্রতিহত হয়, যার ফলে দুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো থাকে এবং সাধারণ মানুষের পানের জন্য নিরাপদ হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রনিকে 'খাকি ক্যাম্পবেল' (Khaki Campbell) জাতের হাঁস পালন করতে বলেছিলেন। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, উক্ত হাঁস বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দেয়, যা খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. এরা বছরে প্রায় ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে।
২. এদের গায়ের পালকের রঙ খাকি বা ধূসর বাদামি রঙের হয়ে থাকে।
৩. এদের দেহ অপেক্ষাকৃত ছোট ও চ্যাপ্টা প্রকৃতির এবং ডিম দেওয়ার উপযোগী হালকা গড়নের।
৪. এরা সাধারণত ১৭-১৮ সপ্তাহ বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে।
৫. এরা প্রতিকূল পরিবেশে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"দারিদ্র্য বিমোচনে প্রাণিসম্পদ যথোপযুক্ত"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রনি একজন শিক্ষিত বেকার যুবক হিসেবে হাঁস পালন এবং গরু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত/মিশ্র খামার স্থাপন করে অল্প দিনেই স্বাবলম্বী হয়। এই দৃষ্টান্তটি প্রমাণ করে যে প্রাণিসম্পদ খাত দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
নিম্নোক্ত দিকগুলো থেকে উক্তিটির যথার্থতা ফুটে ওঠে:
১. স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টি: অল্প পুঁজিতে হাঁস-মুরগি পালন, গাভী পালন কিংবা গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প গ্রহণ করে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত গ্রামীণ বেকার জনগোষ্ঠী আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারে।
২. নিয়মিত ও দ্রুত আয়: হাঁস ও মুরগির ডিম বা মাংস এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করে প্রতিদিন বা স্বল্প মেয়াদে নগদ অর্থ আয় করা সম্ভব হয়, যা সংসারের দৈনন্দিন অভাব দূর করে।
৩. পুষ্টি সরবরাহ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: প্রাণিসম্পদ থেকে প্রাপ্ত দুধ, ডিম ও মাংস পরিবারের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটায় এবং অপুষ্টি দূর করে সুস্থ-সবল জাতি গঠনে সহায়তা করে।
৪. সম্পূরক আয় ও সমন্বিত চাষ: মিশ্র খামারে হাঁসের বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং গোবর থেকে বায়োগ্যাস ও উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার তৈরি করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায়, ফলে খরচ অনেক কমে যায়।অতএব, সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণে তা অনন্য ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও