মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জামাল ও রিমা দম্পতি আপন খালাতো ভাইবোন। তাদের মেয়ে কাজলের বাশক্তি ও শারীরিক দক্ষতার অভাব আছে। তার চেহারাতে বোকা বোকা ভাবসহ পড়ালেখাতেও বেশ পিছিয়ে আছে। জামাল ও রিমা মেয়ের সমস্যা নিরসনের জন্য নিয়মিত মনোবিজ্ঞানী ও 'ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছেন।
- ক)(1)
মেধা কী?
- খ)(2)
ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বুদ্ধির পার্থক্য হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কাজলের সমস্যাকে কী বলে? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
কাজলের সমস্যা নিরসনের জন্য বাবা-মা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেধা হলো ব্যক্তির এমন এক ধরনের বিশেষ মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য, যা কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বুদ্ধির পার্থক্য মূলত বংশগতি ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার কারণে ঘটে থাকে। পিতামাতা থেকে প্রাপ্ত জিনগত উপাদান বা বংশগতির ভিন্নতার কারণে ব্যক্তিসমূহের সহজাত বুদ্ধিগত সামর্থ্যে তারতম্য ঘটে। এছাড়া গর্ভকালীন অবস্থা, পুষ্টিকর খাবার, পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ, শিক্ষার সুযোগ, উদ্দীপনামূলক পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণেও বুদ্ধির মাত্রায় কম-বেশি বা পার্থক্য দেখা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাজলের সমস্যাকে 'বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা' (Intellectual Disability বা Mental Retardation) বলা হয়।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. বুদ্ধ্যঙ্কের স্বল্পতা: বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) সাধারণ মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম (সাধারণত ৭০-এর নিচে) থাকে।
২. যোগাযোগ ও ভাষার দুর্বলতা: এদের বাশক্তি বা বাক্বিকাশ বিলম্বিত হয় এবং মনের ভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না।
৩. অভিযোজন ক্ষমতার অভাব: দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোয় এদের সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়।
৪. ধীর শিখন প্রক্রিয়া: নতুন কোনো কিছু শেখা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এরা স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকে।
৫. শারীরিক ও পেশীয় সমন্বয়ের অভাব: এদের শারীরিক বৃদ্ধি, ভারসাম্য রক্ষা ও শারীরিক দক্ষতা সাধারণের চেয়ে কম হতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাজলের সমস্যা নিরসনের জন্য তার বাবা-মা বহুমুখী ও পেশাদার পদক্ষেপ হিসেবে নিয়মিত মনোবিজ্ঞানী ও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও ইতিবাচক। নিচে পদক্ষেপসমূহের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. চিকিৎসা ও শারীরিক পরিচর্যা (ডাক্তারের ভূমিকা): কাজলদের মতো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের প্রায়ই বিভিন্ন স্নায়বিক ও শারীরিক জটিলতা থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে তার শারীরিক ঘাটতি, পুষ্টি ও স্নায়বিক সমস্যাগুলোর সঠিক রোগনির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় থেরাপি বা চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়।
২. মানসিক মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ (মনোবিজ্ঞানীর ভূমিকা): মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শের মাধ্যমে কাজলের বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক বিকাশের স্তর পরিমাপ করে তার জন্য বিশেষ শিখনপদ্ধতি ও আচরণ সংশোধন (Behavior Modification) পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়। মনোবিজ্ঞানী তাকে দৈনন্দিন কাজ নিজে করার এবং যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর কৌশল শেখাতে সাহায্য করেন।
৩. স্পিচ ও অকুপেশনাল থেরাপি: মনোবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কাজলের বাশক্তি উন্নয়নে 'স্পিচ থেরাপি' এবং শারীরিক সমন্বয় বাড়াতে 'অকুপেশনাল থেরাপি' প্রয়োগ করা সম্ভব, যা তার শারীরিক ও ভাষার সীমাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক।
৪. পারিবারিক কাউন্সেলিং: নিয়মিত পেশাদারদের সাথে যোগাযোগের ফলে জামাল ও রিমা নিজেরাও মেয়েকে ইতিবাচকভাবে পরিচালনা করার দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন।
সুতরাং, কাজলের সমস্যা নিরসনে তার পিতামাতার গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত যথোপযুক্ত এবং এটি কাজলের অভিযোজন ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও