ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯২৯ সালে শ্রমিক আন্দোলনকে দমনের জন্য এবং ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩৩ জন শ্রমিক সংগঠককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের সমর্থনে দেশে বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অবশেষে ১৯৩৩ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।
- ক)(1)
লাহোর প্রস্তাব কত সালে পেশ করা হয়?
- খ)(2)
১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সরকার এক করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব পেশ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে। বাংলাদেশকে মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যেই এই নির্মম বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯২৮-১৯২৯ সালের ঐতিহাসিক 'মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা'র মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শ ও শ্রমিক আন্দোলনের বিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে ১৯২৯ সালের মার্চ মাসে সরকার দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ৩৩ জন বিশিষ্ট শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহ ও সম্রাটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় এবং উত্তর প্রদেশের মিরাটে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩৩ জন শ্রমিক সংগঠককে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি হুবহু মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সরকার এক করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়"—উক্তিটি যথার্থ।
মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতের শ্রমিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনকে নির্মূল করতে চেয়েছিল। কিন্তু মামলাটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশ-বিদেশে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। আলবার্ট আইনস্টাইন, রোমাঁ রোলাঁ, এইচ জি ওয়েলস প্রমুখ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এই মামলার তীব্র সমালোচনা করেন। ব্রিটিশ লেবার পার্টিও এই দমননীতির বিরোধিতা করে।
দীর্ঘ চার বছর বিচার চলার পর সরকার কার্যত সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহ প্রমাণে ব্যর্থ হয়। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য আদালতে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রচার মঞ্চে পরিণত হয়। প্রবল জনমত ও আইনি দুর্বলতার মুখে ১৯৩৩ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট অধিকাংশ অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস বা দণ্ড হ্রাস করে এবং মামলাটি চূড়ান্তভাবে সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক পরাজয় ঘটিয়ে তাদের চরম বিব্রতকর ও করুণ পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও