‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের বক্তব্যে একজন বক্তা উর্দু এবং ফার্সি ভাষায় বক্তৃতা করলেন। পরে তা আবার বাংলায়ও অনুবাদ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বক্তা একজন শ্রোতাকে তার বক্তব্যের মূল্যায়ন করতে। বলেন। শ্রোতা তাকে বলেন, আপনি নিজ ভাষাতে বক্তব্য দিলেই ভালো করতেন।

  1. ক)

    কে সর্বপ্রথম গণপরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন?

    (1)
  2. খ)

    লর্ড রিপনের শিক্ষা সংস্কার ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শ্রোতার বক্তব্যে যে আন্দোলনের বাহঃপ্রকাশ ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উত্ত আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত ভাষাটি পৃথিবীতে দেশটির মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে'- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে 'হান্টার কমিশন' গঠন করে ভারতের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রসারে উদ্যোগ নেন। এই কমিশনের সুপারিশে প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে প্রাথমিক শিক্ষার ভার ন্যস্ত করা হয়। এছাড়াও ব্যক্তিগত ও বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শ্রোতার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বক্তা উর্দু ও ফার্সি ভাষায় বক্তব্য দিলে শ্রোতা তাকে নিজ ভাষা বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন, যা নিজ মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অধিকারবোধের প্রতীক।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। এর প্রতিবাদে বাঙালিরা মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলে। উদ্দীপকের শ্রোতার বক্তব্যে নিজ ভাষার সম্মান ও অধিকার রক্ষার সেই একই চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মর্যাদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

    ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুকের রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করে। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। এটিই বিশ্বের ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের একমাত্র অনন্য দৃষ্টান্ত।

    এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের প্রতিটি দেশ প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবসটি পালন করে আসছে। ফলে বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন এবং এর অর্জিত বাংলা ভাষা আজ বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে গৌরবময় মর্যাদায় ভূষিত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন