ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষিকাজের অন্যতম একটি উপকরণ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদন করা হয়। উপকরণটির অনেকগুলো ধরন রয়েছে; যেমন— ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
- ক)(1)
শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পের দুটি গুরুত্ব লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের তিনটি উৎপাদন কেন্দ্রের বর্ণনা দাও ।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের উৎপাদনজনিত সমস্যাসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক সম্পদ বা কাঁচামালকে কারখানায় শ্রম ও প্রযুক্তির সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী নতুন পণ্যে রূপান্তর করার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পের দুটি প্রধান গুরুত্ব হলো:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস: শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়তা করে।
২. জাতীয় আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি: শিল্পজাত দ্রব্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় আয়কে দ্রুত ত্বরান্বিত করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া সার উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে, যা রাসায়নিক সার শিল্পকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের তিনটি প্রধান সার উৎপাদন কেন্দ্রের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
১. ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা (সিলেট): এটি বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া সার কারখানা, যা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সিলেট অঞ্চলের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে এটি সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। পরবর্তীতে এর আধুনিকায়নে শাহজালাল সার কারখানা স্থাপিত হয়।
২. ঘোড়াশাল সার কারখানা (নরসিংদী): এটি নরসিংদীর পলাশ/ঘোড়াশালে অবস্থিত। এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ সার উৎপাদন কেন্দ্র ছিল, যা তিতাস গ্যাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। বর্তমানে এই এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির 'ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৩. যমুনা সার কারখানা (তারাকান্দি, জামালপুর): ১৯৯১ সালে জামালপুরের তারাকান্দিতে প্রতিষ্ঠিত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সার শিল্পটি বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হলেও এর উৎপাদনে নানাবিধ গুরুতর সমস্যা বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট ও সরবরাহ বিঘ্ন: ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। দেশে গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকারের কারণে প্রায়ই সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত রাখা হয়, ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
২. পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি: বাংলাদেশের অধিকাংশ সার কারখানা অনেক পুরনো প্রযুক্তির। নিয়মিত আধুনিকায়ন ও সংস্কারের অভাবে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন বন্ধের কারণ হয়।
৩. উৎপাদন খরচের আধিক্য ও আর্থিক ক্ষতি: পুরনো কারখানায় অধিক কাঁচামাল ও শক্তি ক্ষয় হয়, যার ফলে প্রতি টন সার উৎপাদনে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় খরচ বেশি পড়ে। ফলস্বরূপ কারখানাগুলো ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়।
৪. দক্ষ জনবলের অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা: আধুনিক সার প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদের ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয় না।
উপরিউক্ত সমস্যাগুলোর কারণে দেশের সার কারখানাগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদার পুরো সার উৎপাদন করতে পারে না, যার ফলে সরকারকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও