ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ভ্রান্তিবিলাসী আরব বসন্তের ঢেউ মিসরের বয়োঃবৃদ্ধ প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে। কিন্তু জনগণ নতুন যাকে শাসক নিয়োগ করে তিনি সেনাপ্রধানের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ফলে নতুন শাসক শক্তি ও শাসনে যোগ্যতার পরিচয় দিলেও কূটকৌশলে বিরোধীদের কাছে হেরে যান এবং অল্প সময়ের মধ্যে কঠিন পরিণতি ভোগ করেন। সেনাপ্রধান খোলস ছেড়ে প্রেসিডেন্টের পদ দখল করেন।

  1. ক)

    'আসাদুল্লাহ' কার উপাধি?

    (1)
  2. খ)

    'শিয়া' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যাসহ লেখো।

    (2)
  3. গ)

    মিসরের প্রেসিডেন্টের পরিণতির সাথে হযরত উসমান (রা)- এর পরিণতির সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের নিরিখে হযরত আলি (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বের পরিণতি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আসাদুল্লাহ' চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.)-এর উপাধি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'শিয়া' একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ দল, অনুসারী বা সমর্থক।

    ইসলামের ইতিহাসে যারা হযরত আলি (রা.) এবং তাঁর বংশধরদের মহানবি (সা.)-এর একমাত্র বৈধ ও প্রকৃত উত্তরাধিকারী বলে মনে করে, তাদেরকে 'শিয়া' বা 'শিয়া-ই-আলি' (আলির দল) বলা হয়। মূলত সিফফিনের যুদ্ধ ও খিলাফতের উত্তরাধিকার কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিভেদের মাধ্যমে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিসরের নতুন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কূটকৌশলের শিকার হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কঠিন পরিণতি ভোগ করার সাথে হযরত উসমান (রা.)-এর রাজনৈতিক সংকটের মুখে মর্মান্তিক পরিণতির সাদৃশ্য রয়েছে।

    হযরত উসমান (রা.) ইসলামের তৃতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সরলতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিশেষত উমাইয়া ও হাশেমিদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অপপ্রচারের ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে। বিদ্রোহীরা খলিফাকে তাঁর বাসভবনে দীর্ঘ দিন অবরুদ্ধ করে রাখে। অবশেষে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে কুরআনে তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাতে তিনি নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন।

    উদ্দীপকের মিসরের নতুন শাসক যেমন শক্তি ও শাসনযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করেন, তেমনি হযরত উসমান (রা.)-ও তাঁর প্রজাবৎসলতা ও শান্তিপ্রিয়তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহের ফলে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন। অতএব, ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বলি হয়ে দুঃখজনক পরিণতি লাভের দিক দিয়ে উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট সামঞ্জস্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে হযরত আলি (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বের পরিণতি ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।

    হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর হযরত আলি (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলে সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া (রা.) উসমান হত্যার বিচারের দাবিতে তাঁর আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে উভয়ের মধ্যে বিখ্যাত সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে হযরত আলি (রা.)-এর জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে মুয়াবিয়া (রা.) বর্শার অগ্রভাগে কুরআন বেঁধে মধ্যস্থতার (সালিশি) প্রস্তাব দেন। হযরত আলি (রা.) সরল বিশ্বাসে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, কিন্তু দুমাতুল জান্দালের সালিশিতে মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি আমর ইবনুল আসের কূটকৌশলের কারণে আলি (রা.) রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    এই সালিশির ফলে মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং খারেজি নামক একটি উগ্র চরমপন্থী দলের উদ্ভব ঘটে। পরবর্তীতে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে একজন খারেজি আততায়ীর হাতে হযরত আলি (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। ফলে খোলাফায়ে রাশেদীনের গণতান্ত্রিক খিলাফত ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং মুয়াবিয়া (রা.) দামেস্কে উমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে মুসলিম বিশ্বে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের সূচনা করেন।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে যেমন বিরোধীদের কূটকৌশলের জয় এবং সেনাপ্রধানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারার সমাপ্তি ঘটে, তেমনি আলি (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর দ্বন্দ্বের ফলেও ইসলামী গণতন্ত্রের স্থলে রাজতান্ত্রিক উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন