ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
সাদিয়া একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবীদ। শিক্ষা, দক্ষতা, সাহসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে একজন সফল রাজনীতিবীদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। রূপে-গুণে অনন্য সাদিয়ার নিকট অন্যান্য পুরুষ রাজনীতিবীদ একেবারে অসহায় ছিল। বিভিন্ন টকশো এবং পত্রিকায় কলাম লেখার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঙ্গনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীয় রাজনৈতিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেন। তবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার তার রাজনৈতিক দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবি হয়।
- ক)(1)
'জাহাঙ্গীর' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'দস্তরুল আমল' কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাদিয়ার সাথে কোন মুঘল সম্রাজ্ঞীর মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাদিয়ার সাথে যে মুঘল সম্রাজ্ঞীর মিল রয়েছে তাঁর কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জাহাঙ্গীর' শব্দের অর্থ 'পৃথিবী বিজয়ী' বা 'জগতের বিজেতা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দস্তরুল আমল' হলো মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর কর্তৃক সিংহাসনে আরোহণের পর প্রজাদের সার্বিক কল্যাণে জারিকৃত বারোটি জনহিতকর প্রশাসনিক ও সামাজিক নিয়মনীতি বা ফরমান।
১৬০৫ সালে সিংহাসনে বসে জাহাঙ্গীর সাম্রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রজাহিতৈষী কার্যক্রম হিসেবে মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণ, অন্যায্য কর বাতিল, বিচারপ্রার্থীদের জন্য প্রাসাদে সুবিচারের ঘণ্টা স্থাপন প্রভৃতি বিধিনিষেধ জারি করেন। এই বারো দফা সংস্কারমূলক নীতিমালা ইতিহাসে 'দস্তরুল আমল' নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাদিয়ার সাথে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের মহিষী নূরজাহানের (মেহেরুন্নিসা) মিল পাওয়া যায়।
নূরজাহান ছিলেন অসাধারণ রূপবতী, বুদ্ধিমতী, বিদূষী ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন এক ব্যক্তিত্ব। ১৬১১ সালে জাহাঙ্গীরের সাথে বিয়ের পর তিনি ধীরে ধীরে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তিনি রাজকার্যে সক্রিয় অংশ নিতেন, ফরমান জারি করতেন এবং নিজ নামে মুদ্রা পর্যন্ত প্রচলন করেছিলেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর নূরজাহানের পরামর্শ ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন না।
উদ্দীপকের সাদিয়াও নূরজাহানের মতোই রূপ ও গুণের সমন্বয়ে পুরুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে রাষ্ট্রের ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেছিলেন। উভয়ই অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করে রাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। সুতরাং, সাদিয়ার সাথে সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের চারিত্রিক ও রাজনৈতিক সাদৃশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাদিয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মুঘল ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে।
নূরজাহানের কর্মকাণ্ডের প্রধান দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. 'নূরজাহান জুন্টা' গঠন: তিনি তাঁর পিতা ইতিমাদ-উদ-দৌলা, ভাই আসফ খান এবং যুবরাজ খুররমকে (পরবর্তীকালে শাহজাহান) নিয়ে একটি শক্তিশালী দল বা চক্র (জুন্টা) গঠন করেন, যা ১৬১১ থেকে ১৬২২ সাল পর্যন্ত সাম্রাজ্যের শাসনভার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রশাসনিক ও রাজকীয় কর্তৃত্ব: জাহাঙ্গীর শারীরিক অসুস্থতা ও আরামপ্রিয়তার কারণে শাসনভারের অনেকটাই নূরজাহানের ওপর ছেড়ে দেন। নূরজাহান ঝরোকা দর্শন দিতেন, রাজকীয় ফরমান অনুমোদন করতেন এবং তাঁর নামে মুদ্রা মুদ্রিত হতো।
৩. রাজপরিবারে গৃহবিবাদ সৃষ্টি: নূরজাহান পরবর্তীতে তাঁর পূর্ববর্তী স্বামীর কন্যা লাডলী বেগমের সাথে জাহাঙ্গীরের কনিষ্ঠ পুত্র শাহরিয়ারের বিবাহ দেন এবং শাহরিয়ারকে সিংহাসনে বসাতে চান। এর ফলে দক্ষ ও যোগ্য যুবরাজ শাহজাহান বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন।
৪. মহব্বত খানের বিদ্রোহ: নূরজাহানের অতিরিক্ত ক্ষমতার লিপ্সা ও আগ্রাসী নীতির কারণে মুঘল সেনাপতি মহব্বত খান ক্ষুব্ধ হয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বন্দি করেন। যদিও নূরজাহান বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সম্রাটকে উদ্ধার করেন, তবে এর ফলে সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়।পরিশেষে, নূরজাহান অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দক্ষ হলেও তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতার লিপ্সা ও স্বজনপ্রীতি মুঘল দরবারে অন্তর্বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল, যা উদ্দীপকে সাদিয়ার ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলাফলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও