ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
'ক' দেশটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা, উত্তরাঞ্চল ভূমি দ্বারা বেষ্টিত থাকলেও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত। এই ভূখণ্ডের আয়তন প্রায় ২,৪৯,৫০০ বর্গকিলোমিটার। দেশটি বিভিন্ন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও ভূমির অনুর্বরতার কারণে ফসল উৎপাদন হতো না। ফলে খাদ্যে দেশটি আমদানি নির্ভর ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ অঞ্চলে চাষাবাদ ও পশুপালনের জন্য কিছুটা উপযোগী ছিল। ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া ও জলবায়ুর কারণে মানুষের দৈহিক গঠন, খাদ্যাগ্রহণ ও চরিত্রগঠনে বিশেষ ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
- ক)(1)
বেদুইন শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
জাহেলিয়া যুগে কাদেরকে 'শেখ' বলা হত? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' দেশের সাথে প্রাক-ইসলামি কোন দেশের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়ার তারতম্য যেন উক্ত দেশের প্রতিচ্ছবি — পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বেদুইন' শব্দের অর্থ যাযাবর বা মরুভূমির অধিবাসী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-ইসলামি আরবে গোত্রপ্রধানকে 'শেখ' বলা হতো।
আরবের যাযাবর বেদুইনরা বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি গোত্র একজন বয়োজ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ, সাহসী ও দূরদর্শী ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। গোত্রের সদস্যরা গণতান্ত্রিক রীতিতে বা সর্বসম্মতভাবে এই প্রধান নির্বাচন করত। এই গোত্রপতিকেই 'শেখ' বলা হতো, যাঁর নির্দেশ গোত্রের সকলেই মেনে চলত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' দেশের সাথে প্রাক-ইসলামি আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত অবস্থার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির তিন দিক জলরাশি (দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম) এবং এক দিক (উত্তর) স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত। তদ্রূপ আরব উপদ্বীপের পূর্বে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর রয়েছে; শুধু উত্তরাংশে সিরিয়া মরুভূমি অবস্থিত। উদ্দীপকের দেশটির মতো আরবের ভূখণ্ড অনুর্বর হওয়ায় খাদ্যোৎপাদন পর্যাপ্ত ছিল না এবং ইয়েমেনসহ দক্ষিণাঞ্চলের কিছুটা উর্বর জমিতে বৃষ্টিপাতের ফলে সীমিত চাষাবাদ ও পশুপালন চলত। সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক' দেশ মূলত প্রাক-ইসলামি আরব ভূখণ্ডেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়ার বৈচিত্র্য মূলত প্রাক-ইসলামি আরব ভূখণ্ডের সামগ্রিক অবস্থার একটি নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
প্রাক-ইসলামি আরব ভূখণ্ডটি প্রধানত শুষ্ক ও মরুভূমিবেষ্টিত ছিল। পানির অভাব ও রুক্ষ জলবায়ুর কারণে আরবের অধিকাংশ এলাকা চাষাবাদের অনুপযোগী ছিল। তবে এর দক্ষিণাঞ্চল (বিশেষ করে ইয়েমেন অঞ্চল, যা 'আরবিয়া ফেলিক্স' নামে পরিচিত) ছিল বৃষ্টিবহুল ও উর্বর, যেখানে কিছুটা চাষাবাদ হতো। খাদ্য সংকটের কারণে আরবরা বহির্বিশ্ব থেকে খাদ্যশস্য আমদানির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল ছিল।
এই ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পার্থক্যের কারণে আরবের অধিবাসীদের জীবনযাপন ও চরিত্রে বিশেষ প্রভাব পড়েছিল। রুক্ষ মরুভূমির বেদুইনরা প্রতিকূল প্রকৃতির সাথে লড়াই করে সাহসী, কষ্টসহিষ্ণু, স্বাধীনচেতা ও আক্রমণাত্মক স্বভাবের হয়ে উঠেছিল; অন্যদিকে উর্বর অঞ্চলের মানুষরা কৃষিকাজ ও বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে তুলনামূলকভাবে শান্ত স্বভাবের নগরবাসী হয়েছিল। উদ্দীপকে উল্লেখিত ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়ার তারতম্য এবং তার ফলে খাদ্যাভ্যাস ও চরিত্রগঠনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও