ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬

ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন

জনাব জামান সাহেব তাঁর পূর্ব পুরুষদের হারানো ক্ষমতা ফিরিয়ে এনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তিনি এলাকার বিভিন্ন ধর্মের যুবকদের নিয়ে 'আল হেরা' নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রচার করেন এ সংগঠন সকল ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এ সংগঠনের নিজস্ব কিছু নীতিমালাও তৈরি করা হয়, যা ইসলাম ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। অবশেষে ওলামায়ে কেরামের বিরোধিতার মুখে এ ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

  1. ক)

    কোন মুসলিম শাসক হিন্দুদের জন্য পৃথক কলোনী স্থাপন করেন।

    (1)
  2. খ)

    মুহাম্মদ ঘুরীর অভিযানকালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব জামান সাহেব ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোন মুঘল সম্রাটের অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে জনাব জামান সাহেব ধর্মীয় সংগঠনের কর্মকাণ্ডের ন্যায় উক্ত মোগল সম্রাটের ধর্মীয় কাজের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক হিন্দুদের জন্য পৃথক কলোনী (যথা- 'দারুল আমান' বা কলোনি ব্যবস্থা) স্থাপন করেছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুহাম্মদ ঘুরীর অভিযানকালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল, দুর্বল এবং অনৈক্যে ভরা।

    তৎকালীন ভারতবর্ষে কোনো কেন্দ্রীয় শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা ছিল না। সমগ্র দেশ বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল এবং উত্তর ভারতে রাজপুত শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল (যেমন কনৌজের জয়চাঁদ ও দিল্লির পৃথ্বীরাজ চৌহানের শত্রুতা)। এই পারস্পরিক শত্রুতা, রাজনৈতিক অনৈক্য ও দূরদর্শিতার অভাব মুহাম্মদ ঘুরীর পক্ষে ভারত বিজয়ের পথকে সুগম করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব জামান সাহেব ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মীয় মতবাদ 'দ্বীন-ই-ইলাহী' প্রবর্তনের বিষয়টি অনুসরণ করেছেন।

    মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৫৮২ সালে বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু নিয়ে 'দ্বীন-ই-ইলাহী' বা 'তৌহিদ-ই-ইলাহী' নামে একটি নতুন সার্বজনীন ধর্মীয় মতবাদ চালু করেন। এর মূল নীতি ছিল 'সুলহ-ই-কুল' বা পরমতসহিষ্ণুতা। তবে এটি প্রচলিত ইসলামী অনুশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় গোঁড়া আলেম সমাজের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে।

    উদ্দীপকের জনাব জামান সাহেবও সকল ধর্মের যুবকদের নিয়ে 'আল হেরা' নামক সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এমন কিছু নীতিমালা তৈরি করেন যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। সম্রাট আকবরও সব ধর্মের সমন্বয়ে নতুন মতবাদ তৈরি করেছিলেন। তাই বলা যায়, জনাব জামানের কর্মকাণ্ডে সম্রাট আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহী প্রবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব জামান সাহেবের ধর্মীয় সংগঠনের ব্যর্থতার মতোই মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ধর্মমত 'দ্বীন-ই-ইলাহী' মারাত্মক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং পরিশেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

    সম্রাট আকবর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন করলেও এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক হতে পারেনি। কারণ:
    ১. মুসলিম সমাজের প্রতিক্রিয়া: গোঁড়া মুসলিম ও ওলামায়ে কেরাম এটিকে সরাসরি ইসলামের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করেন। বিশেষ করে মোজাদ্দেদে আলফে সানী (শেখ আহমদ সিরহিন্দি) এর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এর বিরুদ্ধে সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন।
    ২. অনুসারীর সংখ্যাস্বল্পতা: আকবরের দরবারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যেও বীরবল ছাড়া অধিকাংশ হিন্দু-মুসলিম অমাত্য (যেমন রাজা ভগবান দাস, মানসিংহ) এই ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে এর অনুসারী ছিল নামমাত্র (কয়েক ডজন ব্যক্তি)।
    ৩. আকবরের মৃত্যুর পর বিলুপ্তি: যেহেতু এটি কোনো গণধর্মীয় আন্দোলন ছিল না এবং সম্রাটের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল ছিল, তাই ১৬০৫ সালে আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথেই এই মতবাদের অপমৃত্যু ঘটে।

    উদ্দীপকে যেমন আলেমদের বিরোধিতার মুখে জামান সাহেবের সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল, তেমনি আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহীও ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও আলেমদের প্রচণ্ড প্রতিরোধ ও অনীহার কারণে আকবরের জীবনাবসানের পর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন