ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
'ক' রাজ্যের রাজা অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার কারণে বিলাসিতা বর্জন করে চলতেন। কৃষি ঋণ, আবাসন, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেন। রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দক্ষ ও সৎ কর্মচারী নিয়োগ দেন। জনকল্যাণের জন্য তিনি কোনো ধরণের প্রটোকল ছাড়াই রাজ্যের বিভিন্ন জনপদে ঘুরে ঘুরে মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করতেন। ফলে রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করত।
- ক)(1)
উশর কী?
- খ)(2)
কাকে 'জ্ঞানের দরজা' বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাজা অনাড়ম্বর জীবন-যাপনে খোলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার আদর্শ অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রাজার জনকল্যাণমূলক কর্মের সাথে যে খলিফার কর্মের মিল রয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিমদের কৃষিজমির উৎপাদিত ফসলের ওপর ধার্যকৃত ভূমিকর বা জাকাতকে 'উশর' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত আলী (রা.)-কে 'জ্ঞানের দরজা' (বাবুল ইলম) বলা হয়। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অগাধ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্যের প্রশংসা করে বলেছিলেন— "আমি জ্ঞানের নগরী এবং আলী তার দরজা"। হযরত আলী (রা.) ছিলেন কুরআন, হাদিস, আরবি ব্যাকরণ এবং তৎকালীন আইনশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী। তাঁর গভীর জ্ঞান ও বিচক্ষণতার কারণেই মহানবি (সা.) তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাজা অনাড়ম্বর জীবন-যাপনে খোলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করেছেন।
হযরত ওমর (রা.) বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও অত্যন্ত সাধারণ ও মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। তিনি ছেঁড়া ও তালি দেওয়া জামা পরতেন, সাধারণ আহার করতেন এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কেবল নিজের বেঁচে থাকার মতো সামান্য ভাতা নিতেন। তাঁর মধ্যে কোনো বিলাসিতা বা অহংকার ছিল না, বরং তিনি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেন।
উদ্দীপকের 'ক' রাজ্যের রাজা একইভাবে অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার কারণে সব ধরনের বিলাসিতা বর্জন করেন। রাজার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত ওমর (রা.)-এর জীবনাচরণের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাজার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে খোলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর কর্মের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
হযরত ওমর (রা.) ইতিহাসে তাঁর জনকল্যাণমুখী ও সুশাসিত শাসনব্যবস্থার জন্য অমর হয়ে আছেন। তিনি জনসাধারণের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়ার জন্য রাতের আঁধারে কোনো প্রকার প্রটোকল বা নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়াই মদিনার অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন। ক্ষুধার্থদের নিজ কাঁধে আটার বস্তা বহন করে পৌঁছে দিতেন। এছাড়া তিনি কৃষি উন্নয়নে সেচ খাল খনন, বসতি স্থাপন, পরিবেশ রক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, রাজা কৃষি ঋণ, আবাসন, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেন এবং সৎ ও দক্ষ কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। অধিকন্তু, তিনি কোনো প্রকার প্রটোকল ছাড়াই রাজ্যের জনপদে ঘুরে ঘুরে মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করতেন, যার ফলে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। খলিফা ওমর (রা.)-এর কর্মপদ্ধতিও ছিল ঠিক একই রূপ।
সুতরাং, উদ্দীপকের রাজার জনকল্যাণমূলক কাজ ও প্রটোকলহীন পরিদর্শনের মাধ্যমে খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর প্রজাহিতৈষী আদর্শের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও