ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬

ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন

আব্বাস সাহেব তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সফল রাজনীতিবীদ। প্রতিপক্ষের বিভিন্ন হামলা-মামলা এবং নানা সংকট মোকাবিলা করে স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচক্ষণ আব্বাস সাহেব পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি প্রথমে দেশের সুসংহত বজায় রাখেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। তার বদান্যতা, ধার্মিকতা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের সকল শ্রেণির মানুষের নিকট প্রশংসাযোগ্য ছিল। এভাবে তিনি একটি শক্তিশালী কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তী শাসকদের নিকট অনুকরণীয় ছিল।

  1. ক)

    ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম মুসলিম রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    "Blood and Iron Policy" কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আব্বাস সাহেবের উত্থানের সাথে ভারতবর্ষের কোন সুলতানের উত্থানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে আব্বাস সাহেব ভারতবর্ষের যে সুলতানের কর্মকাণ্ড অনুসরণ করেছেন তার কৃতিত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম মুসলিম রাজতন্ত্র বা দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা হলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "Blood and Iron Policy" বা রক্ত ও লৌহ নীতি হলো সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন কর্তৃক প্রবর্তিত এক কঠোর ও নির্দয় শাসননীতি। রাজ্যে অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিদ্রোহী মেওয়াতি ও ডাকাতদের দমন এবং দিল্লির সালতানাতকে কঠোর রাজকীয় কর্তৃত্বের অধীনে আনতে তিনি এই নীতি গ্রহণ করেন। এ নীতির মূল কথা ছিল বিদ্রোহীদের প্রতি কোনো প্রকার করুণা না দেখিয়ে কঠোর হস্তে হত্যা বা দমন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আব্বাস সাহেবের উত্থানের সাথে ভারতবর্ষের দাস বংশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের (অথবা সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের) উত্থানের গভীর মিল রয়েছে। তবে সার্বিক বিবরণ বিবেচনায় এটি প্রধানত সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ।

    কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রথম জীবনে একজন সাধারণ ক্রীতদাস ছিলেন। তিনি স্বীয় মেধা, কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও সামরিক যোগ্যতার গুণে মুহাম্মদ ঘুরির প্রধান সেনাপতি এবং পরবর্তীতে ভারতবর্ষের সালতানাতের প্রথম সুলতান হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ-বহিরাগত নানা সংকট মোকাবিলা করে তিনি ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছান।

    উদ্দীপকের আব্বাস সাহেবও একইভাবে তৃণমূল থেকে প্রতিকূলতা ও প্রতিপক্ষের নানাবিধ সংকট ও হামলা-মামলা পেরিয়ে স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতায় প্রথমে দলের প্রধান এবং পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। তৃণমূল বা নিচু স্তর থেকে নিজ যোগ্যতাবলে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসীন হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় কুতুবউদ্দিন আইবেকের উত্থানের প্রতিফলন স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আব্বাস সাহেব ভারতবর্ষের সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের কর্মকাণ্ড ও চরিত্র বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করেছেন। নিচে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের কৃতিত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সাম্রাজ্য সুসংহতকরণ: সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক সিংহাসনে আরোহণ করে নতুন রাজ্য বিস্তারের চেয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাম্রাজ্যকে সুসংহত ও সুদৃঢ় করার দিকে বেশি মনোযোগ দেন। তিনি তাজুদ্দিন ইয়ালদুজ এবং নাসিরউদ্দিন কুবাচার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে পরাস্ত করে সালতানাতকে সুরক্ষিত করেন।

    ২. উদারতা ও দানশীলতা: কুতুবউদ্দিন আইবেক তাঁর অসাধারণ দানশীলতা ও বদান্যতার জন্য ইতিহাসে 'লাখবখশ' বা 'লক্ষদাতা' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে মুক্তহস্তে দান করতেন।

    ৩. সুশাসন ও ন্যায়বিচার: তিনি রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। তাঁর সময়ে বাঘ ও ছাগল এক ঘাটে জল খেত বলে প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে, যা তাঁর প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তার সাক্ষ্য দেয়।

    ৪. স্থাপত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ: তিনি দিল্লিতে 'কুওয়াতুল ইসলাম' মসজিদ এবং আজমিরে 'আড়াই দিন কা ঝোপড়া' নির্মাণ করেন। দিল্লির বিখ্যাত কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজও তিনিই শুরু করেছিলেন।

    উদ্দীপকের আব্বাস সাহেবও একইভাবে দেশের ভিত সুসংহত রাখা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা এবং নিজের ধার্মিকতা ও বদান্যতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আব্বাস সাহেবের কর্মকাণ্ড মূলত সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের রাষ্ট্রনায়কোচিত কৃতিত্বেরই প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন