Madrasah Board আলিম পরীক্ষা ২০২৬
11টি প্রশ্ন
- 1.
'ক' দেশটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা, উত্তরাঞ্চল ভূমি দ্বারা বেষ্টিত থাকলেও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত। এই ভূখণ্ডের আয়তন প্রায় ২,৪৯,৫০০ বর্গকিলোমিটার। দেশটি বিভিন্ন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও ভূমির অনুর্বরতার কারণে ফসল উৎপাদন হতো না। ফলে খাদ্যে দেশটি আমদানি নির্ভর ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ অঞ্চলে চাষাবাদ ও পশুপালনের জন্য কিছুটা উপযোগী ছিল। ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া ও জলবায়ুর কারণে মানুষের দৈহিক গঠন, খাদ্যাগ্রহণ ও চরিত্রগঠনে বিশেষ ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
- 2.
ঘটনা-০১ : দুর্গম পাহাড়ী এলাকার কতিপয় ছাত্রী প্রতিদিন পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতো। পথিমধ্যে এলাকার চিহ্নিত কিছু বখাটে যুবক তাদের বিভিন্নভাবে পথরোধ করে অশালীন আচরণ করতো। ফলে তারা নিরাপত্তার কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। ফলে তাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে।
ঘটনা-০২ : মি. 'X' এলাকার একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। কিন্তু তার বাহ্যিক চরিত্রের আড়ালে ছিল এক ভয়ংকর রূপ। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে তার স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন করতেন এমনকি তাকে প্রাণ নাশেরও হুমকি দিতেন। - 3.
ঘটনা-০১ : করিম নগরের পুরাতন মসজিদে লোক সংকুলান না হওয়া এবং ছাদ ও দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার কারণে মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ইট, বালি, রড, সিমেন্ট সংগ্রহ করে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা হয়। কাজ শেষে মসজিদের মেহরাব কোন বংশ প্রদান করবে তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। তখন এলাকার সকলের বিশ্বস্ত মিরাজ সাহেব সকল বংশের কাছ থেকে সমান অর্থ নিয়ে মেহরাব নির্মাণের ব্যবস্থা করে সমস্যার সমাধান করেন।
ঘটনা-০২ : দিনমজুর রশিদ মিয়ার ২টি কন্যা সন্তান আছে সম্প্রতি তার আরো ১টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি খুশি হন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ তুমি আমাকে ৩টি জান্নাত দান করেছো। তাদেরকে যথাযথভাবে দ্বীনি শিক্ষা দিতে পারি সে তৌফিক দান কর। তার অল্প আয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি মেয়েদের লেখা-পড়া শেখান। রশিদ মিয়া তার সম্পত্তি সমানভাবে তার মেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দেন। - 4.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বহিঃশত্রুর আক্রমণের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য বিজ্ঞ কমান্ডার সোহেলের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ কৌশল হিসেবে রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে এবং কিছু রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে শত্রুদের প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং শত্রুবাহিনীকে সহজে ঘায়েল করতে সক্ষম হয়।
- 5.
'ক' রাজ্যের রাজা অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার কারণে বিলাসিতা বর্জন করে চলতেন। কৃষি ঋণ, আবাসন, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেন। রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দক্ষ ও সৎ কর্মচারী নিয়োগ দেন। জনকল্যাণের জন্য তিনি কোনো ধরণের প্রটোকল ছাড়াই রাজ্যের বিভিন্ন জনপদে ঘুরে ঘুরে মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করতেন। ফলে রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করত।
- 6.
আব্বাস সাহেব তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সফল রাজনীতিবীদ। প্রতিপক্ষের বিভিন্ন হামলা-মামলা এবং নানা সংকট মোকাবিলা করে স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচক্ষণ আব্বাস সাহেব পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি প্রথমে দেশের সুসংহত বজায় রাখেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। তার বদান্যতা, ধার্মিকতা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের সকল শ্রেণির মানুষের নিকট প্রশংসাযোগ্য ছিল। এভাবে তিনি একটি শক্তিশালী কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তী শাসকদের নিকট অনুকরণীয় ছিল।
- 7.
'ক' রাজ্যের শাসক জনাব বাবুল শরীফ হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় একমাত্র মেয়ে নুসরাত রাজ্যের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সমর্থন নিয়ে রাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। দুই বছর তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন। কিন্তু নারী হওয়ার কারণে রাজ্যের এলিট শ্রেণি তাঁর বিরোধিতা করে। সর্বশেষ দেশের রক্ষণশীল এলিট শ্রেণি দুর্নীতির অজুহাতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
- 8.
জনাব জামান সাহেব তাঁর পূর্ব পুরুষদের হারানো ক্ষমতা ফিরিয়ে এনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তিনি এলাকার বিভিন্ন ধর্মের যুবকদের নিয়ে 'আল হেরা' নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রচার করেন এ সংগঠন সকল ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এ সংগঠনের নিজস্ব কিছু নীতিমালাও তৈরি করা হয়, যা ইসলাম ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। অবশেষে ওলামায়ে কেরামের বিরোধিতার মুখে এ ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
- 9.
সাদিয়া একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবীদ। শিক্ষা, দক্ষতা, সাহসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে একজন সফল রাজনীতিবীদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। রূপে-গুণে অনন্য সাদিয়ার নিকট অন্যান্য পুরুষ রাজনীতিবীদ একেবারে অসহায় ছিল। বিভিন্ন টকশো এবং পত্রিকায় কলাম লেখার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঙ্গনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীয় রাজনৈতিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেন। তবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার তার রাজনৈতিক দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবি হয়।
- 10.
চাঁদপুর একটি প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক বন্দর কাঁচামালসহ প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যসামগ্রী এখানে পাওয়া যায়। তাই এখানে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম হয়। পার্শ্ববর্তী শহর শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে দেখে অন্যান্য এলাকা থেকেও অনেক ব্যবসায়ী আসে। বণিক সমিতি বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা এবং কিছু নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করেন। অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা মেনে নিলেও শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা নিয়ম-কানুন অমান্য করে এবং বণিক সমিতির বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এমনকি শেষ পর্যন্ত গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বন্দরের কর্তৃত্ব তাদের হাতে নিয়ে নেয়।
- 11.
জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে 'ক' ইউনিয়ন বেশ বড়। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এটিকে ভেঙে দুটি ইউনিয়নে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তা বাস্তবায়ন হয়। ইউনিয়নের একটি পক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বহুমুখী প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে। তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার ইউনিয়ন দুটিকে পুনরায় একত্রিত করে একটি ইউনিয়নে রূপান্তর করে। এতে কিছু মানুষ লাভবান হলেও ইউনিয়নের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী শিক্ষা, নাগরিক সুবিধা, রাজনৈতিক অধিকার, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।