ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
ঘটনা-০১ : করিম নগরের পুরাতন মসজিদে লোক সংকুলান না হওয়া এবং ছাদ ও দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার কারণে মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ইট, বালি, রড, সিমেন্ট সংগ্রহ করে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা হয়। কাজ শেষে মসজিদের মেহরাব কোন বংশ প্রদান করবে তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। তখন এলাকার সকলের বিশ্বস্ত মিরাজ সাহেব সকল বংশের কাছ থেকে সমান অর্থ নিয়ে মেহরাব নির্মাণের ব্যবস্থা করে সমস্যার সমাধান করেন।
ঘটনা-০২ : দিনমজুর রশিদ মিয়ার ২টি কন্যা সন্তান আছে সম্প্রতি তার আরো ১টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি খুশি হন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ তুমি আমাকে ৩টি জান্নাত দান করেছো। তাদেরকে যথাযথভাবে দ্বীনি শিক্ষা দিতে পারি সে তৌফিক দান কর। তার অল্প আয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি মেয়েদের লেখা-পড়া শেখান। রশিদ মিয়া তার সম্পত্তি সমানভাবে তার মেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দেন।
- ক)(1)
হযরত ঈসা (আ.) কে আল্লাহর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতো কারা?
- খ)(2)
জাহেলি যুগে হানিফ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ঘটনা-১ এর সাথে রসুল (সা.) এর নবুয়ত পূর্ব জীবনের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ঘটনা-২ এর সাথে জাহেলি যুগের যে অবস্থার বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিত করে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খ্রিস্টানরা হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইয়ামে জাহেলিয়াত বা জাহেলি যুগে আরব সমাজের অধিকাংশ মানুষ মূর্তিপূজা ও নানাবিধ কুসংস্কারে লিপ্ত থাকলেও 'হানিফ' সম্প্রদায় ছিল একত্ববাদে বিশ্বাসী।
'হানিফ' শব্দের অর্থ সত্যনিষ্ঠ বা একনিষ্ঠ। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রচারিত তাওহিদ বা একত্ববাদের অনুসারী ছিল। তারা পৌত্তলিকতা, মূর্তিপূজা এবং জাহেলি যুগের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্জন করে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত করতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘটনা-১ এর সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়তপূর্ব জীবনের কাবাঘর পুনঃনির্মাণ ও হাযরে আসওয়াদ স্থাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনার মিল রয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর ৩৫ বছর বয়সে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র কাবাঘর কুরাইশরা পুনঃনির্মাণ করে। কিন্তু রুকনে ইয়ামানি বা দেয়ালের নির্দিষ্ট স্থানে বরকতময় হাযরে আসওয়াদ (পবিত্র কালো পাথর) স্থাপন নিয়ে কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয় এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের উপক্রম হয়। তখন প্রবীণ আবু উমাইয়া বিন মুগিরার প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, পরদিন ভোরে যিনি প্রথম মসজিদে হারামে প্রবেশ করবেন তিনিই এ বিষয়ে ফয়সালা দেবেন। পরদিন সকালে রাসুল (সা.) সর্বপ্রথম প্রবেশ করলে সবাই সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে সালিস মানে। তিনি একটি চাদরের ওপর হাযরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদরের প্রান্ত ধরে বহন করতে বলেন এবং যথাস্থানে পৌঁছে নিজে তা স্থাপন করে রক্তপাত এড়ান।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, মসজিদ পুনঃনির্মাণ শেষে মেহরাব প্রদান নিয়ে বিভিন্ন বংশের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে সকলের বিশ্বস্ত মিরাজ সাহেব সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। এটি রাসুল (সা.) কর্তৃক হাযরে আসওয়াদ স্থাপনের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের ঘটনার প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘটনা-২ এর সাথে জাহেলি যুগের কন্যা সন্তান হত্যা ও নারীর অবমাননাকর অবস্থার বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে।
আইয়ামে জাহেলিয়াতে আরব সমাজে কন্যা সন্তানকে চরম অমঙ্গল, লজ্জা ও দারিদ্র্যের কারণ হিসেবে গণ্য করা হতো। ফলে অনেক নিষ্ঠুর পিতা কন্যাসন্তানকে জীবিত মাটিতে পুঁতে হত্যা করত, যা ইতিহাসে 'ওয়াদুল বানাত' নামে পরিচিত। সে যুগে পরিবার ও সমাজে নারীর কোনো সম্মান, অধিকার বা সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার ছিল না। তাদের পণ্যের মতো কেনাবেচা করা হতো।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায়, দিনমজুর রশিদ মিয়া কন্যাসন্তানের জন্মকে আল্লাহর নিয়ামত এবং জান্নাত পাওয়ার উসিলা মনে করে আনন্দ প্রকাশ করেন। স্বল্প আয়ের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি মেয়েদের উপযুক্ত দ্বীনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেন এবং নিজের সম্পত্তিতে কন্যাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করেন। এটি ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের বর্বরতার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং রাসুল (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি জীবনাদর্শের বাস্তব রূপায়ণ। ইসলামেই সর্বপ্রথম কন্যাসন্তানের লালন-পালনকে জান্নাত লাভের মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অতএব, ঘটনা-২ জাহেলি যুগের নারী ও কন্যাসন্তানদের প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের সম্পূর্ণ বিপরীত মানবিক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও