ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
'ক' রাজ্যের শাসক জনাব বাবুল শরীফ হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় একমাত্র মেয়ে নুসরাত রাজ্যের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সমর্থন নিয়ে রাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। দুই বছর তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন। কিন্তু নারী হওয়ার কারণে রাজ্যের এলিট শ্রেণি তাঁর বিরোধিতা করে। সর্বশেষ দেশের রক্ষণশীল এলিট শ্রেণি দুর্নীতির অজুহাতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
- ক)(1)
ভারতবর্ষে সুলতান মাহমুদ কতবার অভিযান পরিচালনা করেন?
- খ)(2)
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নুসরাতের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন নারী শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নুসরাতের ন্যায় নারী হওয়াই ছিল উক্ত নারী শাসকের পতনের মূল কারণ — পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষে মোট ১৭ বার অভিযান পরিচালনা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন তৃতীয় মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর।
যদিও জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তবুও তাঁর পুত্র হুমায়ুনের আমলে মুঘলরা শেরশাহ শুরির কাছে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরবর্তীতে ১৫৫৬ সালে বৈরাম খাঁর সহায়তায় পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে সম্রাট আকবর হিমুকে পরাজিত করে মুঘল শাসনকে পুনরায় সুসংহত ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। সুদৃঢ় প্রশাসনিক কাঠামো, রাজপুত নীতি ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের কারণে আকবরকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নুসরাতের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের দিল্লির মামলুক (দাস) বংশের একমাত্র নারী শাসক সুলতানা রিজিয়ার মিল রয়েছে।
সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ তাঁর অযোগ্য পুত্রদের চেয়ে কন্যা রিজিয়াকে অধিক যোগ্য মনে করে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর রুকনুদ্দিন ফিরোজ স্বল্পকাল ক্ষমতায় থাকলেও আমির-ওমরাহ ও জনগণের সমর্থনে ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতানা রিজিয়া দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। পুরুষোচিত পোশাক পরিধান করে তিনি যুদ্ধ পরিচালনা ও দরবার পরিচালনা করতেন।
উদ্দীপকের জনাব বাবুল শরীফের মৃত্যুর পর তাঁর একমাত্র মেয়ে নুসরাত দক্ষতা ও সমর্থনের সাথে যেমন নারী প্রধানমন্ত্রী হন, তেমনি সুলতানা রিজিয়াও পিতৃবিয়োগের পর দিল্লির প্রথম নারী শাসক হয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাই নুসরাতের সাথে সুলতানা রিজিয়ার ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নুসরাতের ন্যায় 'নারী হওয়া'ই সুলতানা রিজিয়ার পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল—ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বক্তব্যটি যথার্থ।
সুলতানা রিজিয়া ছিলেন একজন দক্ষ, বিচক্ষণ, ন্যায়পরায়ণ এবং রণকৌশলী শাসক। সমসাময়িক ইতিহাসবিদ মিনহাজ-উস-সিরাজ লিখেছেন, রিজিয়া ছিলেন একজন মহান শাসক এবং রাজ্যের সব গুণের অধিকারী, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নারী ছিলেন এবং পুরুষ শাসিত সমাজ তাঁকে মেনে নেয়নি। তৎকালীন দিল্লির শক্তিশালী তুর্কি অভিজাত দল 'চল্লিশ চক্র' বা 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' একজন নারীর অধীনে নিজেদের মাথা নত করতে রাজি ছিল না। তারা সবসময় একজন পুতুল শাসক চাইত, যাঁর ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখা যায়। কিন্তু রিজিয়ার স্বাধীনচেতা মনোভাব, যোগ্যতা ও পর্দা প্রথা ত্যাগ করে দরবারে বসা রক্ষণশীল অভিজাত শ্রেণি মেনে নিতে পারেনি।
এছাড়া রিজিয়া কর্তৃক আবিসিনীয় দাস জালালুদ্দিন ইয়াকুতকে উচ্চ পদে নিয়োগ দিলে তুর্কি আমিররা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ভাতিন্ডার শাসনকর্তা আলতুনিয়ার বিদ্রোহ এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মুখে সুলতানা রিজিয়া পরাজিত ও নিহত হন। অতএব, তাঁর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন রক্ষণশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিতে নারী হওয়াই সুলতানা রিজিয়ার পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও