ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬

ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বহিঃশত্রুর আক্রমণের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য বিজ্ঞ কমান্ডার সোহেলের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ কৌশল হিসেবে রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে এবং কিছু রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে শত্রুদের প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং শত্রুবাহিনীকে সহজে ঘায়েল করতে সক্ষম হয়।

  1. ক)

    উহুদের যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    কুরাইশদের বয়কট নীতি বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    মুক্তিযোদ্ধা গণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নবি করিম (সা.) এর কোন যুদ্ধ কৌশল অনুসরণ করে? বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যে কৌশলে যুদ্ধ করে তা যেন উক্ত যুদ্ধেরই অনুরূপ — পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উহুদের যুদ্ধ ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কুরাইশদের বয়কট নীতি বলতে নবুওয়াতের সপ্তম বর্ষে মক্কার কুরাইশদের দ্বারা মহানবি (সা.) ও তাঁর বংশ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে সামাজিকভাবে বয়কট বা একঘরে করে রাখার ঘটনাকে বোঝায়। কুরাইশরা একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে কাবাগৃহে ঝুলিয়ে দেয়, যেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে মুসলমানদের সাথে কোনো প্রকার বৈবাহিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা হবে না। এর ফলে মহানবি (সা.) ও তাঁর অনুসারীরা 'শিআবে আবি তালিব' নামক গিরিদুর্গে প্রায় তিন বছর অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযোদ্ধাগণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নবি করিম (সা.)-এর খন্দক বা পরিখা যুদ্ধের আত্মরক্ষামূলক কৌশল অনুসরণ করেছেন।

    ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে মদিনা আক্রমণকারী বহুগুণ বড় শত্রু বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য হযরত সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে মহানবি (সা.) মদিনা শহরের অরক্ষিত অংশে গভীর পরিখা বা খাল খনন করেছিলেন। এর ফলে শত্রুসেনারা সরাসরি মদিনায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয় এবং মুসলিমরা সফলভাবে মদিনা রক্ষা করতে সক্ষম হন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বিজ্ঞ কমান্ডার সোহেলের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে এবং রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে দিয়ে শত্রুদের পথ অবরুদ্ধ করার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন। পরিখা খননের মূল উদ্দেশ্য ছিল শত্রুর অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়া, ঠিক যেমনটি উদ্দীপকে রাস্তা ও ব্রিজ ধ্বংস করে করা হয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধারা নবি করিম (সা.)-এর খন্দক বা পরিখা যুদ্ধের কৌশলই অনুসরণ করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুক্তিযোদ্ধারা যে কৌশলে যুদ্ধ করেছিলেন, তা খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধের কৌশলেরই অনুরূপ—মন্তব্যটি যথার্থ।

    ইসলামের ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মদিনা সনদের শর্ত লঙ্ঘনকারী ইহুদি এবং মক্কার কুরাইশসহ বিভিন্ন মিত্র গোত্র সম্মিলিতভাবে প্রায় দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মদিনা আক্রমণ করে। মুসলিমদের সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজার। শত্রুর বিপুল সৈন্যবাহিনী দেখে মহানবি (সা.) হযরত সালমান ফারসির (রা.) পরামর্শক্রমে আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে মদিনার উন্মুক্ত অংশে পরিখা খনন করেন। পরিখার কারণে শত্রুবাহিনী মদিনায় প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ঝড়-তুফান ও রসদ সংকটে পর্যুদস্ত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

    উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কমান্ডার সোহেলের পরামর্শে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তুলনায় সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আত্মরক্ষামূলক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল গ্রহণ করেন। তাঁরা বড় বড় গাছ ফেলে পথ অবরুদ্ধ করেন এবং রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে দেন যাতে শত্রুপক্ষের আধুনিক ভারী যানবাহন ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা যেমন শত্রুর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দিয়েছিল, তেমনি এখানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা শত্রুকে পরাস্ত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

    অতএব, উদ্দীপকে গৃহীত কৌশলটি খন্দকের যুদ্ধের আত্মরক্ষামূলক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কৌশলের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন