ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে 'ক' ইউনিয়ন বেশ বড়। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এটিকে ভেঙে দুটি ইউনিয়নে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তা বাস্তবায়ন হয়। ইউনিয়নের একটি পক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বহুমুখী প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে। তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার ইউনিয়ন দুটিকে পুনরায় একত্রিত করে একটি ইউনিয়নে রূপান্তর করে। এতে কিছু মানুষ লাভবান হলেও ইউনিয়নের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী শিক্ষা, নাগরিক সুবিধা, রাজনৈতিক অধিকার, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- ক)(1)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
- খ)(2)
খেলাফত আন্দোলন কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের বিভক্তি ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের পুনরায় একত্রীকরণ ভারতবর্ষের যে ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের উসমানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর ব্রিটিশরা তুর্কি খলিফার মর্যাদা ও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। তুরস্কের খলিফার পদমর্যাদা, অখণ্ডতা এবং ইসলামি খেলাফতের পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতের মুসলিম নেতৃবৃন্দ (বিশেষ করে মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মুহাম্মদ আলী) ১৯১৯ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, তাকে খেলাফত আন্দোলন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের বিভক্তি ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' (বাঙলা বিভাজন) ঘটনাকে নির্দেশ করে।
ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সি আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বিশাল ছিল, যার ফলে প্রশাসন পরিচালনা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছিল। লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন। এই পদক্ষেপের ফলে পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে বিশাল 'ক' ইউনিয়ন প্রশাসনিক সুবিধার স্বার্থে ভেঙে দুটি ইউনিয়নে বিভক্ত করা হয় এবং একটি পক্ষ একে স্বাগত জানায়। এই ঘটনাটি প্রশাসনিক কারণে লর্ড কার্জন কর্তৃক ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কার্যক্রমের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের পুনরায় একত্রীকরণ ভারতবর্ষের ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ রদ' (Partition of Bengal Annulment)-এর ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হলে পূর্ব বাংলার অবহেলিত মুসলমানরা অত্যন্ত আনন্দিত হয় এবং অর্থনৈতিক ও শিক্ষার নতুন সুযোগ পায়। কিন্তু কলকাতার হিন্দু বুদ্ধিজীবী, জমিদার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ বিভক্তি মেনে নিতে পারেননি। তারা বঙ্গভঙ্গকে 'মাতৃভূমির বিভাজন' আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে তীব্র স্বদেশি আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলন শুরু করেন। একই সাথে চরমপন্থীরা সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের চাপে পড়ে ব্রিটিশ সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।
অবশেষে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গকে পুনরায় একত্রিত করা হয়। এতে চরমপন্থী ও আন্দোলনকারী মহল খুশি হলেও পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সম্প্রদায় ভীষণভাবে হতাশ হয় এবং তাদের শিক্ষা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হয়। উদ্দীপকেও স্বার্থান্বেষী মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সরকার দুটি ইউনিয়নকে একত্রিত করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার ও উন্নয়নে ক্ষতির সৃষ্টি হয়। এই রূপরেখাটি নিখুঁতভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের প্রেক্ষাপট ও ফলাফলকে প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও