ইসলামের ইতিহাস (আলিম) • Madrasah Board • আলিম পরীক্ষা ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস (আলিম) প্রশ্ন
চাঁদপুর একটি প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক বন্দর কাঁচামালসহ প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যসামগ্রী এখানে পাওয়া যায়। তাই এখানে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম হয়। পার্শ্ববর্তী শহর শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে দেখে অন্যান্য এলাকা থেকেও অনেক ব্যবসায়ী আসে। বণিক সমিতি বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা এবং কিছু নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করেন। অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা মেনে নিলেও শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা নিয়ম-কানুন অমান্য করে এবং বণিক সমিতির বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এমনকি শেষ পর্যন্ত গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বন্দরের কর্তৃত্ব তাদের হাতে নিয়ে নেয়।
- ক)(1)
দিনেমার কারা?
- খ)(2)
"অন্ধকূপ হত্যা" বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীদের সাথে ইউরোপীয় কোন বণিকদের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনা যেন ভারতে ইউরোপীয় বণিক দলের গোপন ষড়যন্ত্রের প্রতিচ্ছবি — পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডেনমার্কের অধিবাসীদের 'দিনেমার' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হলওয়েল নামক এক ইংরেজ কর্মচারীর রচিত কাল্পনিক বিবরণ অনুযায়ী, নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা আক্রমণের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রস্থের একটি ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে এক রাত আটকে রাখা হয়। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনা ইতিহাসে 'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নামে পরিচিত। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নবাবকে নিষ্ঠুর হিসেবে চিত্রিত করার জন্য ইংরেজরা এ কাহিনী বানিয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীদের সাথে ইউরোপীয় বণিক দল 'ইংরেজ' তথা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাদৃশ্য রয়েছে।
মুঘল আমলে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাংলায় আগমন করে ইংরেজরা ধীরে ধীরে বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে শুরু করে। কিন্তু তারা দেশের প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও বাণিজ্য শুল্ক ফাঁকি দিতে শুরু করে এবং স্থানীয় শাসনকর্তাদের বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা চাঁদপুর বন্দরে এসে ব্যবসা করে লাভবান হলেও বণিক সমিতির আরোপিত নিয়ম-কানুন অমান্য করে এবং শেষ পর্যন্ত গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বন্দরের কর্তৃত্ব দখল করে নেয়। ইংরেজ বণিকরাও একইভাবে বাংলায় ব্যবসার সুযোগ নিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে গোপন ষড়যন্ত্র এবং পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব দখল করেছিল। তাই তাদের সাথে ইংরেজ বণিকদের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা যেন ভারতে ইউরোপীয় বণিক দলের, বিশেষ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতবর্ষে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের গোপন ষড়যন্ত্রেরই এক সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
ইউরোপীয় বণিক দল (পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি ও ইংরেজ) ভারতে মূলত মসলা ও অন্যান্য বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আগমন করেছিল। এদের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্য করার পাশাপাশি ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করে। নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলে ইংরেজরা প্রচলিত নিয়মানুযায়ী নতুন নবাবকে কোনো উপঢৌকন দেয়নি, দুর্গ নির্মাণ বন্ধের আদেশ অমান্য করে এবং দস্তকের চরম অপব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে তারা নবাবের দরবারের অসন্তুষ্ট অভিজাত যেমন মীর জাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমের সাথে গোপন ষড়যন্ত্র ও আঁতাত করে। এর চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ, যার মাধ্যমে ইংরেজরা বাংলার নবাবকে পরাজিত করে প্রকৃত কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা চাঁদপুর বন্দরে এসে নিয়ম অমান্য করে এবং বণিক সমিতির বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করে শেষ পর্যন্ত গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বন্দরের কর্তৃত্ব দখল করে। এই ঘটনাটি ভারতবর্ষে ইংরেজদের বাণিজ্য থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রমূলক প্রক্রিয়ার সাথে হুবহু মিলে যায়। অতএব, বলা যায় উদ্দীপকের ঘটনাটি ভারতে ইউরোপীয় বণিক দলের গোপন ষড়যন্ত্রেরই প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও