ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
রাফসান একজন চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছবি। অংকনের স্কুলে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়ে সে 'ক' রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাফসান একটি দল গঠন করে 'ক' দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ক)(1)
নেপোলিয়নকে কোন দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়?
- খ)(2)
'VETO' ক্ষমতা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত রাফসানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে ব্যক্তির কর্মের মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ব্যক্তির কার্যক্রম বিশ্বে যে প্রভাব ফেলেছিল তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় (প্রথমবার এলবা দ্বীপে এবং চূড়ান্তভাবে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভেটো' (Veto) একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ 'আমি মানি না' বা 'আমি প্রত্যাখ্যান করি'। এটি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রস্তাব পাসে একতরফাভাবে বাধা দেওয়ার বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা। যেমন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন) যে কোনো মৌলিক প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার প্রয়োগে যে কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাফসানের জীবনের সাথে পাঠ্যবইয়ের জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের কর্মের মিল রয়েছে।
অ্যাডলফ হিটলার শৈশবে একজন চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভিয়েনার চারুকলা একাডেমিতে ভর্তি হতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সাহসিকতার জন্য আয়রন ক্রস লাভ করেন। যুদ্ধের পর তিনি নাৎসি পার্টি গঠন করেন এবং ১৯৩৩ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর (প্রধানমন্ত্রী) এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল ফন হিন্ডেনবার্গের মৃত্যুর পর উভয় পদ একত্রিত করে 'ফুয়েরার' বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে আবির্ভূত হন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রাফসান চিত্রশিল্পী হতে চেয়ে স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দল গঠন করে রাষ্ট্রক্ষমতা অধিকার করেন। সুতরাং, এই ঘটনাটি হিটলারের জীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ব্যক্তি হিটলারের কার্যক্রম বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
ক্ষমতায় আরোহণের পর হিটলার উগ্র জাতীয়তাবাদ ও চরম ফ্যাসিবাদী নাৎসিবাদ কায়েম করেন। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ভার্সাই চুক্তির শর্তসমূহ লঙ্ঘন করে জার্মানির সামরিকীকরণ শুরু করেন। তাঁর উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতি, আগ্রাসন এবং বিশ্বজয়ের উন্মাদনা ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে।
হিটলারের কার্যক্রমের মূল প্রভাবসমূহ হলো:
১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা: ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে তিনি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটান।
২. মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হলোকস্ট: তিনি ইহুদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম নিধনযজ্ঞ চালান, যাতে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিসহ অসংখ্য মানুষ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে প্রাণ হারায়।
৩. বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন: তাঁর পতনের মাধ্যমে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর প্রভাব হ্রাস পায় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে দ্বিমেরুকেন্দ্রিক স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা ঘটে।
৪. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা: হিটলারের আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় বিশ্বনেতাদের স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘ গঠনে বাধ্য করেছিল।অতএব, বলা যায় হিটলারের কার্যক্রম বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি এবং মানবিক ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও