ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
উত্তর আফ্রিকার সুদানে ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে দু'টি শিবিরে বিভক্ত করেন।
- ক)(1)
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
'দ্বৈত শাসন' কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তোমার পাঠ্যবইয়ের উক্ত ঘটনার ফলাফল মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ভারতের কলকাতায় অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করার পর বাংলায় যে শাসন কাঠামো গড়ে ওঠে, তাকে 'দ্বৈত শাসন' বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায় ও সামরিক (দেওয়ানি) ক্ষমতা চলে যায় ইংরেজ কোম্পানির হাতে, আর শাসনকার্য পরিচালনা ও বিচার ব্যবস্থার (নিজামত) দায়িত্ব থাকে নবাবের হাতে; অর্থাৎ কোম্পানির হাতে ছিল 'দায়িত্বহীন ক্ষমতা' আর নবাবের হাতে ছিল 'ক্ষমতাহীন দায়িত্ব'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটির সাথে ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' (বা ব্রিটিশদের 'বিভক্ত ও শাসন নীতি')-এর মিল রয়েছে।
সুদানে ঔপনিবেশিক শাসকেরা যেমন শাসন টিকিয়ে রাখতে জনগণকে দুই শিবিরে বিভক্ত করেছিল, তেমনি ব্রিটিশ সরকারও ভারতবর্ষ তথা বাংলায় তাদের ঔপনিবেশিক শাসন সুরক্ষিত রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করতে বিভাজন নীতির আশ্রয় নেয়। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করেন। এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী এবং তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতির মোড় পরিবর্তনকারী:
১. পূর্ববঙ্গের উন্নয়ন ও মুসলিম জাগরণ: নতুন প্রদেশ গঠিত হওয়ায় ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানী হয় এবং পূর্ববঙ্গে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত বিকাশ ঘটে। পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণি এতে দারুণভাবে লাভবান ও উৎসাহিত হয়।
২. বঙ্গভঙ্গবিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন: হিন্দু উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজ এই বিভক্তিকে 'মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ' হিসেবে গণ্য করে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন থেকে 'স্বদেশী' ও 'বয়কট' আন্দোলন এবং পরবর্তীতে চরমপন্থী বিপ্লবী আন্দোলনের সৃষ্টি হয়।
৩. মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা: মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠিত হয়, যা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করে।
৪. বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১): হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়, যা মুসলমানদের গভীরভাবে হতাশ করে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তোলে।পরিশেষে, বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশদের বিভাজন নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্কের চিরস্থায়ী ফাটল তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্তির পটভূমি তৈরি করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও