ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিপু বাজারে গিয়ে দেখলেন যে, বাজারে প্রতিটি দ্রব্যের। মূল্য তালিকা দেয়া আছে কিন্তু ব্যবসায়ীগণ তা মানছেন না। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকার পরিবর্তে ৩৭/৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- ক)(1)
তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
বলবনের "রক্তপাত ও কঠোর নীতি" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসকের গৃহীত ব্যবস্থার ফলাফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন গিয়াসউদ্দীন তুঘলক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন সাম্রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদ্রোহীদের কঠোর হাতে দমন করার জন্য যে আপসহীন ও নিষ্ঠুর নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তাকে 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' (Blood and Iron Policy) বলা হয়। মেওয়াতী দস্যু দমন এবং বিদ্রোহী আমির ও প্রাদেশিক শাসকদের কঠোর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে তিনি রাজকীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে দিল্লির সুলতানি আমলের খলজি বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক সুলতান আলাউদ্দীন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ বা মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাজারে মূল্য তালিকা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা তা না মেনে চড়া দামে পণ্য বিক্রি করছেন। সুলতান আলাউদ্দীন খলজি তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনীর ভরণপোষণ এবং সাধারণ প্রজাদের সুবিধার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেন এবং ব্যবসায়ীদের তা মানতে বাধ্য করেন। তিনি বাজার তদারকির জন্য 'শাহনা-ই-মান্ডি' ও 'দেওয়ান-ই-রিয়াসত' নামক কর্মকর্তা নিয়োগ করেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান আলাউদ্দীন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক:
১. দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীলতা: তাঁর শাসনামলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষের সময়ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য এক পয়সাও বৃদ্ধি পায়নি। খাদ্যশস্য, কাপড়, ঘোড়া, গবাদিপশুসহ সব পণ্যের দাম নির্ধারিত ছিল।
২. সাধারণ প্রজাদের স্বস্তি: ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভী প্রবণতা এবং মজুদদারি বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক স্বস্তি পেয়েছিল।
৩. বিশাল সেনাবাহিনীর ব্যয় নির্বাহ: অল্প বেতনে বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী পরিচালনা করা সুলতানের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল, যা মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিরোধ এবং সাম্রাজ্য বিস্তারে অপরিহার্য ছিল।
৪. দুর্নীতি দমন: ওজনে কম দেওয়া কিংবা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নিলে কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় বাজারে সততা প্রতিষ্ঠিত হয়।তবে এই ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা ছিল এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কঠোর বলপ্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল ছিল, ফলে আলাউদ্দীন খলজির মৃত্যুর পর তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। সার্বিকভাবে তৎকালীন মধ্যযুগীয় অর্থনীতিতে এটি ছিল এক অনন্য ও সফল পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও