ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ইউরোপের ইতিহাসে বিশ শতকের প্রথম দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ভয়াবহ এক যুদ্ধ শেষে বিজয়ী জোট পরাজিত জোটকে সন্ধি করতে বাধ্য করে। কিন্তু বিজয়ী জোট পরাজিত জোটের প্রতি যে অমানবিক আচরণ করেছিল, তাতে সন্ধিটি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায়। এই পক্ষপাতদুষ্ট সন্ধির খেসারত বিশ্বের মানুষকে পুনরায় দিতে হয়েছিল।
- ক)(1)
লীগ অব নেশনস কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়েছিল?
- খ)(2)
ত্রি-শক্তি আঁতাত কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে সন্ধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত সন্ধির ব্যর্থতাই পরবর্তীকালে বিশ্বকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লীগ অব নেশনস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯০৭ সালে ইউরোপের বৃহৎ তিন শক্তি— ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সমন্বয়ে যে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক জোট গড়ে উঠেছিল, তাকে 'ত্রি-শক্তি আঁতাত' (Triple Entente) বলা হয়।
জার্মানির আগ্রাসী নীতি এবং জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে গঠিত 'ত্রি-শক্তি মৈত্রী'র প্রভাব প্রতিহত করতে ফ্রান্স ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় ব্রিটেন তাদের সাথে যুক্ত হয়। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপে জার্মানির একাধিপত্য খর্ব করা এবং শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন বিজয়ী মিত্রশক্তি ও পরাজিত জার্মানির মধ্যে স্বাক্ষরিত 'ভার্সাই সন্ধি'র প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই সন্ধি স্বাক্ষরের কারণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি: ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের রক্তক্ষয় অবসানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি স্থাপনের প্রয়োজন ছিল।
২. যুদ্ধাপরাধ নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়: মিত্রশক্তি যুদ্ধের জন্য জার্মানিকে এককভাবে দায়ী করে যুদ্ধাপরাধের ধারা (War Guilt Clause 231) অন্তর্ভুক্ত করে এবং জার্মানির ওপর বিপুল অঙ্কের যুদ্ধক্ষতিপূরণ চাপিয়ে দেয়।
৩. জার্মানির শক্তি খর্ব করা: ভবিষ্যতে জার্মানি যাতে ইউরোপের নিরাপত্তার হুমকি না হতে পারে, সেজন্য দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি পঙ্গু করে দেওয়া এবং ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া ছিল বিজয়ী জোটের মূল উদ্দেশ্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি ভার্সাই সন্ধির ব্যর্থতা ও এর পক্ষপাতদুষ্ট চরিত্রই পরবর্তীকালে বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
প্রথমত, ভার্সাই সন্ধি কোনো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে হয়নি; এটি ছিল একটি 'চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি' (Diktat)। প্যারিস শান্তি সম্মেলনে পরাজিত জার্মানিকে কোনো বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যা জার্মান জাতির মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অপমানের জন্ম দেয়।
দ্বিতীয়ত, জার্মানির বিশাল ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয়, প্রায় সব উপনিবেশ কেড়ে নিয়ে মিত্রশক্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং জার্মানির সামরিক বাহিনীকে অত্যন্ত নগণ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। সেই সাথে জার্মানির ওপর যে অবাস্তব ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপানো হয়, তাতে দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ে।
তৃতীয়ত, এই অন্যায্য ও চরম অপমানজনক সন্ধির প্রতি জার্মানদের ক্ষোভকে পুঁজি করেই এডলফ হিটলার ও তাঁর নাৎসি দল জার্মানিতে উগ্র জাতীয়তাবাদের উন্মাদনা সৃষ্টি করে ক্ষমতায় আসে। হিটলার ভার্সাই সন্ধির শর্তগুলো একে একে লঙ্ঘন করে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেন, যা পরিশেষে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়ে দেয়।
অতএব, ভার্সাই সন্ধির প্রতিশোধমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট চরিত্রই বিশ্বকে আরেকটি ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও