ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
এশীয় দেশ মালয়েশিয়া বিগত তিন দশকে কৃষি-বাণিজ্যের পাশাপাশি আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধন করে। উৎপাদন ব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়। ফলে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়।
- ক)(1)
কে পাওয়ার লুম আবিষ্কার করেন?
- খ)(2)
দরিদ্র আইন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মালয়েশিয়ার উন্নয়নের সাথে ইউরোপের কোন। দেশের ব্যাপক উন্নয়নের সাদৃশ্য রয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত উন্নয়ন মানব সভ্যতায় বহুমুখী পরিবর্তন। এনেছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এডমন্ড কার্টরাইট (Edmund Cartwright) পাওয়ার লুম আবিষ্কার করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্র আইন (Poor Laws) হলো ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ও কৃষি পরিবর্তনের ফলে কর্মহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণ, নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত ধারাবাহিক কিছু আইন। ১৬০১ সালে রানি এলিজাবেথের আমলে প্রবর্তিত আইনটি পরবর্তীতে ১৮৩৪ সালে 'নতুন দরিদ্র আইন' হিসেবে সংশোধিত হয়। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম দরিদ্রদের বাধ্যতামূলকভাবে 'ওয়ার্কহাউস'-এ কাজ করার ব্যবস্থা এবং অসহায়দের সামান্য ত্রাণের বিধান করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে অষ্টাদশ শতকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে সংঘটিত 'শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution) ও দেশটির ব্যাপক উন্নয়নের সাদৃশ্য রয়েছে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইংল্যান্ডে উৎপাদন ব্যবস্থায় কায়িক শ্রমের পরিবর্তে বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পাওয়ার লুম, স্পিনিং জেনি ইত্যাদির মতো বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। ফলে সেখানে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হতে থাকে এবং দেশটির অর্থনীতি কৃষিনির্ভরতা থেকে আধুনিক শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, মালয়েশিয়া গত তিন দশকে সনাতন ধারার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উৎপাদন ব্যবস্থায় অভাবনীয় সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা ইংল্যান্ডের সেই ঐতিহাসিক শিল্প বিপ্লবের অগ্রযাত্রারই অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি ইংল্যান্ডে সূচিত শিল্প বিপ্লব এবং তার ফলে ঘটা আধুনিক উন্নয়ন মানব সভ্যতায় বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এনেছিল।
শিল্প বিপ্লব শুধু উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটায়নি, বরং মানব সমাজের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধন করেছিল:
১. অর্থনৈতিক পরিবর্তন: বাষ্পীয় শক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে কুটির শিল্পের জায়গায় বৃহৎ কারখানা ব্যবস্থার সূচনা হয়। বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিপুল প্রসার ঘটে এবং পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ হয়।
২. যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপান্তর: বাষ্পীয় রেলগাড়ি, বাষ্পচালিত জাহাজ এবং টেলিগ্রাম আবিষ্কারের ফলে দূরত্বের ব্যবধান কমে আসে এবং যোগাযোগে বৈপ্লবিক গতিশীলতা আসে।
৩. নগরায়ণ ও সামাজিক রূপান্তর: কাজের সন্ধানে লাখ লাখ মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমায়, ফলে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহামের মতো বড় বড় শিল্পনগরী গড়ে ওঠে। এর পাশাপাশি সমাজে মালিক শ্রেণি ও শ্রমিক শ্রেণি নামে দুটি নতুন শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে।
৪. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, গৃহস্থালি সামগ্রীর সহজলভ্যতা ও জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের গড় আয়ু ও দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আসে।সুতরাং, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, শিল্প বিপ্লবের ফলে সংঘটিত অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন মানব সভ্যতাকে এক আধুনিক যুগে পৌঁছে দিয়ে বহুমুখী পরিবর্তনের ধারা তৈরি করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও