‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়। জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার জন্য অনেক সাঁওতাল জীবন বিসর্জন দেয়। অবশেষে ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের পক্ষে বৈষম্যহীন আইন পাস করতে বাধ্য হয়। সাঁওতালরা সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে নতুন শোষণহীন সমাজব্যবস্থার সাথে পরিচিত হয়।

  1. ক)

    'নিহিলিজম' কী?

    (1)
  2. খ)

    'এপ্রিল থিসিস' সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সাঁওতালদের সংগ্রামের সাথে বিশ শতকের প্রথম দিকের কোন সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উক্ত সংগ্রামের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'নিহিলিজম' হলো উনিশ শতকে রাশিয়ায় উদ্ভূত এক চরমপন্থী নৈরাজ্যবাদী বা চরম বস্তুবাদী মতবাদ, যা প্রচলিত সমাজব্যবস্থা, ঐতিহ্য, ধর্ম ও প্রতিষ্ঠিত সকল কর্তৃত্বকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'এপ্রিল থিসিস' হলো ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাসন থেকে রাশিয়ায় ফিরে বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন কর্তৃক ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি।

    এতে লেনিন যুদ্ধ বন্ধ করা, বুর্জোয়া অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো প্রকার সমর্থন না দেওয়া, 'সকল ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে অর্পণ', জমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন এবং ব্যাংক ও উৎপাদনের উপায়গুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই রাশিয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাঁওতালদের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সাথে বিশ শতকের প্রথম দিকের ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক 'রুশ বিপ্লব' বা 'বলশেভিক বিপ্লব'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    কারণ বিশ্লেষণ: উদ্দীপকের সাঁওতালরা জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ শাসকদের দীর্ঘদিনের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। একইভাবে রাশিয়ায় জার শাসনামলে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণি অভিজাত এবং বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠী দ্বারা তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক শোষণের শিকার হয়েছিল। সাঁওতালদের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, যার জন্য তারা রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছিল। একইভাবে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক দল জারতন্ত্র ও বুর্জোয়া ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে শ্রমিক-কৃষকের শাসন তথা বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করার লক্ষ্যে ১৯১৭ সালে সশস্ত্র বিপ্লব পরিচালনা করে। সুতরাং, শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও গণসংগ্রামের দিক থেকে উভয় ঘটনার মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের প্রভাব বিশ্বব্যাপী এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

    রুশ বিপ্লব কেবল রাশিয়ার সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটায়। কার্ল মার্কসের সমাজতান্ত্রিক তত্ত্ব প্রথম এ বিপ্লবের মাধ্যমেই বাস্তবে রূপ লাভ করে। এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম শ্রমিক-কৃষকের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পুঁজিবাদের বিপরীতে এক বিকল্প বৈশ্বিক ব্যবস্থার সূচনা করে।

    বিশ্বব্যাপী এর প্রভাবের দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রেরণা: এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলোতে রুশ বিপ্লব জাতীয়তাবাদী ও উপনিবেশবিরোধী মুক্তি আন্দোলনকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে।
    ২. কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রসার: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক দল গঠিত হয় এবং তৃতীয় আন্তর্জাতিক বা কমিন্টার্ন-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিপ্লবের ডাক ছড়িয়ে পড়ে।
    ৩. শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা: পুঁজিবাদের শোষণ কমাতে পশ্চিমা দেশগুলো শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কর্মদিবস, মজুরি বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হয়।

    অতএব, রুশ বিপ্লব সমগ্র মানব ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করে বিশ্বব্যাপী গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন