সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
Al-Umran বা সংস্কৃতি বিজ্ঞান ধারণাটি কার?
- খ)(2)
সামাজিক নিরাপত্তার ধারণাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন মতবাদটির অন্যতম প্রবক্তা হলেন রুশো, হবস্ ও জন লক? উক্ত মতবাদটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'?' চিহ্নিত স্থানে কোন প্রতিষ্ঠানটি হবে? উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদ কোনটি এবং কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘Al-Umran’ বা সংস্কৃতি বিজ্ঞান ধারণাটি মুসলিম চিন্তাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ ইবনে খালদুনের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিরাপত্তা হলো সমাজের নাগরিকদের অসুস্থতা, বার্ধক্য, বেকারত্ব, পঙ্গুত্ব কিংবা কোনো দুর্যোগের সময় রাষ্ট্র বা সমাজের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা। আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক অসমতা দূরীকরণ এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার্থে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান জটিল ও পরিবর্তনশীল আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের হাত থেকে প্রান্তিক ও সাধারণ জনগণকে রক্ষা করতে সামাজিক নিরাপত্তার ধারণাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মতবাদগুলোর মধ্যে 'সামাজিক চুক্তি মতবাদ' (Social Contract Theory)-এর অন্যতম প্রবক্তা হলেন টমাস হব্স, জন লক ও জঁ-জ্যাক রুশো।
সামাজিক চুক্তি মতবাদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এই মতবাদটির মূল বক্তব্য হলো— আদিম সমাজের বিশৃঙ্খল ও নিরাপত্তাহীন 'প্রকৃতির রাজ্য' থেকে মুক্তি পেতে মানুষ নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই মতবাদের তাৎপর্য নিম্নরূপ:
১. রাজাদের দৈব অধিকার তত্ত্বের অবসান: এই মতবাদটি রাজার ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার অন্ধবিশ্বাস চূর্ণ করে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র মানুষের সৃষ্টি, কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তির সৃষ্টি নয়।
২. জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা: রুশোর 'সাধারণ ইচ্ছা' ও লকের 'সীমিত সরকার' ধারণা আধুনিক গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্বের ভিত্তি স্থাপন করে।
৩. আধুনিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভিত্তি: এই মতবাদটি পরবর্তীকালে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৭৭৬) এবং ফরাসি বিপ্লবকে (১৭৮৯) গভীরভাবে প্রভাবিত করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'রাষ্ট্র' (State) বসবে।
রাষ্ট্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদটি হলো 'ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ' (Historical or Evolutionary Theory)।
কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি: অন্যান্য মতবাদ যেমন—ঐশ্বরিক মতবাদ, বলপ্রয়োগ মতবাদ কিংবা সামাজিক চুক্তি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তিকে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা শক্তির ফল হিসেবে দেখায়, যা কাল্পনিক ও একপেশে। কিন্তু বিবর্তনমূলক মতবাদ অনুসারে রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দিনে হঠাৎ তৈরি হয়নি; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধীরে ধীরে বিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।
২. বহুমুখী উপাদানের সমন্বয়: এই মতবাদ অনুযায়ী রক্তের সম্পর্ক, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ বা শক্তির সংঘাত, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক চেতনার মতো একাধিক উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে রাষ্ট্রের বিকাশ ঘটেছে।
৩. প্রামাণ্য সমাজতাত্ত্বিক ভিত্তি: রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গার্নার যথার্থই বলেছেন, "রাষ্ট্র সৃষ্টিও হয়নি, এটি কোনো ঈশ্বরের দানও নয়, বলপ্রয়োগের ফলেও নয় কিংবা কোনো চুক্তির মাধ্যমেও নয়—বরং এটি একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বা বিবর্তনের ফল।"সুতরাং, ঐতিহাসিক তথ্য ও বৈজ্ঞানিক যুক্তির নিরিখে বিবর্তনমূলক মতবাদই রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত সর্বাধিক যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও