ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

একদল জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় 'এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠিত হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার জন্য এখানে প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ, করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন নতুন গবেষণার কাজেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় গবেষণায় যথাযথ সহযোগিতা দিতে অক্ষম।

  1. ক)

    খলিফা আল মামুনের স্ত্রীর নাম কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    আল মামুনের প্রতি পারসিকদের সমর্থনদানের কারণ ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির কর্মকান্ডের সাথে আল মামুনের কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আব্বাসি খিলাফতে শিক্ষা সংস্কৃতির উন্নয়নে আল মামুন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির অবদান এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় বেশি ছিল- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা আল মামুনের স্ত্রীর নাম ছিল বোরান (বা পুরাম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা আল মামুনের মা মারাজিল ছিলেন পারস্য বংশোদ্ভূত। ফলে মামুনের রক্তের সাথে পারসিকদের আত্মিক সম্পর্ক ছিল। এছাড়া তাঁর পিতা হারুন অর রশীদের পর ভাই আমিনের সাথে গৃহযুদ্ধে আল মামুন পারস্যের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। পারসিকরা আশা করেছিল মামুনের বিজয়ের মাধ্যমে আব্বাসি প্রশাসনে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে, তাই তারা মামুনকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জ্ঞানচর্চা ও প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠানটির সাথে আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ' (House of Wisdom)-র সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের 'এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ' যেমন প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষণ ও গবেষণায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে, তেমনি ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে খলিফা আল মামুন 'বাইতুল হিকমাহ' প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল একই সাথে একটি উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র, উন্মুক্ত গ্রন্থাগার ও অনুবাদ ব্যুরো। এখানে গ্রিক, ফারসি, ভারতীয়, সিরীয় ইত্যাদি ভাষার মূল্যবান বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গ্রন্থসমূহ আরবিতে অনুবাদ এবং সংরক্ষণ করা হতো। পণ্ডিত ও গবেষকদের জন্য এটি ছিল জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান মিলনমেলা। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য আল মামুনের বাইতুল হিকমাহর কাজের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্বাসি খিলাফতে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে আল মামুন প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ'র অবদান এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় বহুগুণে তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ছিল— উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকের এশিয়াটিক সোসাইটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যে প্রধানত আঞ্চলিক ইতিহাস ও গবেষণায় অবদান রাখছে। কিন্তু আল মামুন প্রতিষ্ঠিত বাইতুল হিকমাহ ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও অঢেল বাজেটে পরিচালিত এক বৈশ্বিক জ্ঞানকেন্দ্র। খলিফা আল মামুন রাজকীয় কোষাগার উন্মুক্ত করে দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন এবং অনুবাদের জন্য পণ্ডিতদের স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক দিতেন।

    বাইতুল হিকমাহর মাধ্যমে গ্রিক দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ইত্যাদি মৌলিক শাস্ত্রের অনুবাদ ও নতুন গবেষণার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালি অধ্যায়ের সূচনা হয়। আল-খোয়ারিজমি, আল-কিন্দি প্রমুখ মনীষীর গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানের জ্ঞানভাণ্ডার পরবর্তীকালে ইউরোপের রেনেসাঁ বা নবজাগরণেও সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল। সুতরাং, রাষ্ট্রীয় প্রভাব ও ঐতিহাসিক অবদানের গভীরতার দিক থেকে বাইতুল হিকমাহর অবদান যেকোনো আধুনিক স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন