কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষি শিক্ষক রফিক সাহেব তার ছাত্রদের নিয়ে একটি মুরগির খামার পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেখতে পেলেন কিছু মুরগি প্রচণ্ড দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা করছে সেই সাথে সাদা শ্লেষ্মা ও রক্ত পড়ছে এবং মলদ্বারের পাশের পালক ভেজা আছে। এ বিষয়ে খামারিকে তিনি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে বললেন।
- ক)(1)
ব্লুডার হাউস কী?
- খ)(2)
ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত খামারের মুরগি কোন রোগে আক্রান্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত খামারের মুরগির রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম উপায়ে তাপ দিয়ে সদ্য ফোটা বা এক দিন বয়সের মুরগির বাচ্চাদের পরিচর্যা ও লালন-পালন করার জন্য যে বিশেষ ঘর ব্যবহার করা হয়, তাকে ব্রুডার হাউস (Brooder House) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিম অনুর্বর বা অনিষিক্ত হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রজনন অনুপাতে অসঙ্গতি: ঝাঁকে পুরুষ ও স্ত্রী মুরগির অনুপাত সঠিক না থাকলে (সাধারণত প্রতি ৮-১০টি মুরগির জন্য একটি সুস্থ মোরগ প্রয়োজন) সব ডিম নিষিক্ত হয় না।
২. মোরগের বয়স ও শারীরিক অক্ষমতা: মোরগ অতি অল্পবয়স্ক, অতি বৃদ্ধ, অপুষ্টিতে ভোগা অথবা শারীরিকভাবে অক্ষম বা রোগাক্রান্ত হলে শুক্রাণুর কার্যক্ষমতা কমে যায় বা সঙ্গম ব্যর্থ হয়।
৩. পুষ্টির অভাব: প্রজননরত মুরগির খাদ্যে পর্যাপ্ত ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই) ও খনিজের ঘাটতি ডিম অনুর্বর হওয়ার অন্যতম কারণ।
৪. প্রতিকূল পরিবেশ: অতিরিক্ত গরম, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বা আলোর তীব্রতার তারতম্যের কারণে মোরগের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত খামারের মুরগিগুলো 'কক্সিডিওসিস' বা 'রক্ত আমাশয়' রোগে আক্রান্ত।
কক্সিডিওসিস হলো পোলট্রির একটি মারাত্মক পরজীবীঘটিত সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত 'আইমেরিয়া' (Eimeria) গোত্রের একপ্রকার এককোষী প্রোটোজোয়া পরজীবীর সংক্রমণে ঘটে থাকে। এটি সাধারণত স্যাঁতসেঁতে লিটার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
উদ্দীপকে শিক্ষক রফিক সাহেব খামারে যে লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন, তা কক্সিডিওসিসের সাথে হুবহু মিলে যায়:
১. তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা হওয়া।
২. মলের সাথে সাদা শ্লেষ্মা ও তাজা রক্ত নির্গত হওয়া।
৩. পাতলা পায়খানার কারণে মলদ্বারের আশপাশের পালক ভিজে আঠার মতো লেগে থাকা।এসব সুস্পষ্ট লক্ষণ পর্যালোচনা করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, খামারের মুরগিগুলো কক্সিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কক্সিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রতিরোধের উপায় (Prevention):
১. লিটার ব্যবস্থাপনা: খামারের লিটার সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনোভাবেই লিটার স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা হতে দেওয়া যাবে না, কারণ আর্দ্র পরিবেশে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়।
২. নিয়মিত লিটার নাড়াচাড়া ও জীবাণুমুক্তকরণ: লিটার মাঝে মাঝে উল্টেপাল্টে দিতে হবে এবং চুন প্রয়োগ করে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত ভেজা অংশ অপসারণ করে নতুন শুকনো লিটার দিতে হবে।
৩. কক্সিডিওস্ট্যাট ব্যবহার: মুরগির বৃদ্ধির প্রাথমিক অবস্থায় খাদ্যে বা পানিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কক্সিডিওস্ট্যাট (Coccidiostat) জাতীয় ওষুধ প্রতিরোধক হিসেবে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
৪. জৈব নিরাপত্তা ও জীবানু নিয়ন্ত্রণ: খামারে ব্যবহৃত পানির পাত্র ও খাবারের পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। খামারে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করতে হবে।প্রতিকারের উপায় (Treatment):
১. আক্রান্ত মুরগি পৃথকীকরণ: রোগাক্রান্ত মুরগিকে সাথে সাথে সুস্থ মুরগির দল থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।
২. ওষুধের সঠিক প্রয়োগ: প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত কক্সিডিওসিস নিরাময়কারী ওষুধ যেমন—সালফাকুইনোক্সালিন (Sulfaquinoxaline), সালফাডাইমিথক্সিন, টলট্রাজুরিল (Toltrazuril) বা আমপ্রোলিয়াম (Amprolium) সঠিক মাত্রায় পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
৩. সহায়ক চিকিৎসা: রক্তক্ষরণ ও দুর্বলতা কাটাতে ভিটামিন-কে এবং ইলেক্ট্রোলাইট বা ভিটামিন মিশ্রণ পানিতে মিশিয়ে দিতে হবে।সুতরাং, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোগ দেখা দিলে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিকারমূলক ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল কক্সিডিওসিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও