কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
করিম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি মাংস উৎপাদনকারী গরুর খামার গড়ে তোলেন। কিছুদিন পর তিনি দেখতে পেলেন একটি গরুর মুখ দিয়ে ফেনাযুক্ত লালা ঝরছে, পা দিয়ে মাটি খুড়ছে সেই সাথে উত্তেজিত অবস্থায় অন্য পশুকে আক্রমণ করছে। তাছাড়া আক্রান্ত পশু ঘন ঘন প্রস্রাব করছে এবং পানি পান করতে পারছে না। করিম দ্রুত স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তার খামারে আদর্শ প্রতিপালন পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন।
- ক)(1)
ষাঁড় কী?
- খ)(2)
পাস্তুরিত দুধ নিরাপদ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
করিমের খামারে কোন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে? উক্ত রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী করিমের খামারে উক্ত রোগের প্রতিকার কীভাবে করা যায় তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রজননক্ষম পূর্ণাঙ্গ পুরুষ গরুকে ষাঁড় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাস্তুরিত দুধ নিরাপদ কারণ পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে দুধ উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। এতে দুধে থাকা রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর জীবাণু (যেমন- যক্ষ্মা, টাইফয়েড, সালমোনেলা ইত্যাদির জীবাণু) ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু দুধের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে। ফলে এ দুধ খেলে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না বিধায় পাস্তুরিত দুধ সম্পূর্ণ নিরাপদ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
করিমের খামারে 'জলাতঙ্ক' (Rabies) রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।
উদ্দীপকে গরুর মুখ দিয়ে ফেনাযুক্ত লালা ঝরা, পা দিয়ে মাটি খোঁড়া, আক্রমণাত্মক হওয়া এবং পানি পান করতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা গেছে, যা জলাতঙ্ক রোগের সুস্পষ্ট লক্ষণ।
উক্ত রোগের কারণ:
জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক জুনোটিক রোগ। এটি মূলত 'র্যাবডো ভাইরাস' (Rhabdovirus) পরিবারের লিসাভাইরাস (Lyssavirus)-এর সংক্রমণের কারণে ঘটে। সাধারণত জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত পাগল কুকুর, শেয়াল, বিড়াল বা বেজি যদি সুস্থ পশুকে কামড় বা আঁচড় দেয়, তবে তাদের লালায় থাকা ভাইরাসটি ক্ষতের মাধ্যমে পশুর রক্তে ও স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে। ভাইরাসটি দ্রুত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে আক্রান্ত পশু অস্বাভাবিক আচরণ ও পানির প্রতি ভীতি প্রদর্শন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী করিমের খামারে জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার রোধ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে আক্রান্ত পশুর আর কোনো কার্যকর চিকিৎসা থাকে না এবং সাধারণত মৃত্যু অবধারিত। তাই এ ক্ষেত্রে প্রতিকারমূলক ও প্রতিরোধমূলক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:
১. আক্রান্ত পশুকে দ্রুত পৃথকীকরণ: লক্ষণযুক্ত গরুকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য সুস্থ পশু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নিরাপদ স্থানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে যাতে অন্য পশু বা মানুষ কামড় বা লালার সংস্পর্শে না আসে।
২. ক্ষতস্থানের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা: যদি খামারের অন্য কোনো পশুকে পাগল কুকুর বা শেয়ালে কামড়িয়ে থাকে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতের স্থানটি কার্বলিক সাবান বা তীব্র ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রচুর পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ভালো করে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগাতে হবে।
৩. জরুরি টিকাদান (Post-exposure Prophylaxis): কামড়ের শিকার হওয়া অন্যান্য পশুকে জরুরি ভিত্তিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নির্দেশনায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী অ্যান্টি-র্যাবিস টিকা দিতে হবে।
৪. মৃত পশুর নিরাপদ অপসারণ: আক্রান্ত পশু মারা গেলে তার মৃতদেহ কোনো অবস্থাতেই খোলা জায়গায় ফেলা যাবে না। মৃতদেহটি পর্যাপ্ত পরিমাণ চুন বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে মাটির অন্তত ৬ ফুট গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ধ্বংস করতে হবে।
৫. খামারের নিরাপত্তা ও টিকাদান: খামারে যেন পাগল কুকুর, শেয়াল বা বন্য প্রাণী প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য মজবুত বেড়া নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি খামারের সকল সুস্থ পশুকে নিয়মিত রুটিনমাফিক জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করতে হবে।অতএব, উল্লেখিত প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে করিম তার খামারকে রক্ষা করতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও