কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বৃক্ষের ড্রেসিং কী?
- খ)(2)
কৃষিমেলার আয়োজন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে 'A' ও 'C' চিহ্নিত বন দুইটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে 'C' চিহ্নিত বনটি কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গাছ কাটার পর গাছের গুঁড়ি থেকে শাখা-প্রশাখা ছেঁটে ফেলে কাঠ ব্যবহারের উপযোগী বা মসৃণ করার কাজকে বৃক্ষের ড্রেসিং বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, নতুন জাতের বীজ, সার, কীটনাশক ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির সাথে পরিচিত করানোর উদ্দেশ্যে কৃষিমেলার আয়োজন করা হয়।
কৃষিমেলায় উন্নত কৃষি উপকরণ ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়, যা দেখে কৃষকরা উৎসাহিত হন এবং আধুনিক কৃষি বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। এতে কৃষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হয় এবং তারা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ পান, যা সার্বিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে 'A' হলো পাহাড়ি বন এবং 'C' হলো উপকূলীয় বা ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন)। এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ভৌগোলিক অবস্থান: পাহাড়ি বন (A) প্রধানত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। অপরদিকে, ম্যানগ্রোভ বন (C) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে অবস্থিত।
২. মাটির বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ: পাহাড়ি বনের মাটি প্রধানত লালচে বা হালকা বাদামি রঙের পাহাড়ি দোআঁশ মাটি। অপরদিকে, ম্যানগ্রোভ বনের মাটি লবণাক্ত ও কাদাযুক্ত এবং দিনে দু'বার জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়।
৩. প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতি: পাহাড়ি বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, গামারি, জারুল, বাঁশ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, কেওড়া, গোলপাতা ইত্যাদি, যেগুলোতে শ্বাসমূল (নিউমাটোফোর) ও ঠেসমূল দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে 'C' চিহ্নিত বনটি হলো ম্যানগ্রোভ বন বা সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage) সংরক্ষণে সুন্দরবনের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
সুন্দরবন হলো পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এর অনন্য জীববৈচিত্র্য, বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে 'বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা' (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে।
১. বিরল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: সুন্দরবন বহু বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র এটি। এছাড়াও এখানে চিত্রা হরিণ, ইরিওয়াড়ি ডলফিন, লবণাক্ত পানির কুমির ও নানা প্রজাতির পাখি এবং জলজ প্রাণী বাস করে, যা বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অপরিহার্য।
২. অনন্য বাস্তুতন্ত্র রক্ষা: সুন্দরবনের উদ্ভিদগুলোতে শ্বাসমূল ও ঠেসমূল রয়েছে, যা বৈরী লবণাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার এক অনন্য উদাহরণ। এটি জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের চমৎকার মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করে বিশ্ব পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩. জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা: সুন্দরবন বিশাল পরিমাণ কার্বন শোষণ (Carbon Sink) করে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে ঢাল হিসেবে রক্ষা করে বৈশ্বিক পরিবেশের স্থিতিশীলতায় অনন্য অবদান রাখছে।
সুতরাং, অনন্য জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত তাৎপর্যের কারণে সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে এক অনন্য ও অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও