‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের চিন্তাভাবনা করে চলেছে মানুষ। মাত্র দুই দশক সময়ের ব্যবধানে দু'টি মানবসভ্যতা বিধ্বংসী যুদ্ধ মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল। ফলে বিশ শতকের মধ্যভাগে একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্ম হয়।

  1. ক)

    রুজভেল্ট কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ভেটো কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উত্ত বৃহৎ সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে- বিশ্লেষণ করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ভেটো' (Veto) একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ 'আমি মানি না' বা 'আমি বাতিল করলাম'।

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন) কোনো প্রস্তাবে অসম্মতি জানানোর বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ভেটো ক্ষমতা নামে পরিচিত। নিরাপত্তা পরিষদে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই পাঁচ রাষ্ট্রের যেকোনো একটি রাষ্ট্র যদি ভেটো দেয়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিশ শতকের মধ্যভাগে প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে 'জাতিসংঘ'কে (United Nations) নির্দেশ করা হয়েছে। নিম্নে এর প্রধান অঙ্গ সংগঠনগুলো আলোচনা করা হলো:

    জাতিসংঘ সনদের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংস্থাটির ৬টি প্রধান অঙ্গ রয়েছে:
    ১. সাধারণ পরিষদ (General Assembly): জাতিসংঘের মূল নীতি-নির্ধারণী ও বিতর্ক সভা, যেখানে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সমান ভোটাধিকার রয়েছে।
    ২. নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council): বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গ। এর ৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে।
    ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC): অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তদারকি করে।
    ৪. অছি পরিষদ (Trusteeship Council): উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোর স্বাধীনতা ও স্বশাসন অর্জনের জন্য গঠিত হয়েছিল (বর্তমানে এর কার্যক্রম কার্যত স্থগিত)।
    ৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয় (International Court of Justice): নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এই আদালত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা।
    ৬. সচিবালয় (Secretariat): জাতিসংঘের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, যার নেতৃত্বে থাকেন মহাসচিব।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে—উক্তিটি যথাযথ।

    ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বিপর্যয় থেকে বিশ্বকে রক্ষা করে আসছে। সংস্থাটি বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং নিরস্ত্রীকরণে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।

    জাতিসংঘের 'শান্তিরক্ষা মিশন' (Peacekeeping Operations) বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ থামানো, নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক অবদান রাখছে। এছাড়া সুয়েজ সংকট, কঙ্গো সংকট, উপসাগরীয় যুদ্ধসহ বহু সংকট নিরসনে জাতিসংঘ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশ্বশান্তি রক্ষার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, মানবাধিকার রক্ষা, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সংস্থাটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। বড় পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে কখনো কখনো সীমাবদ্ধতা দেখা দিলেও, বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘই আন্তর্জাতিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রধান আশ্রয়স্থল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন