ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' ও 'খ' পরস্পর বিবদমান দুটি গ্রাম। আশপাশের গ্রামগুলো তাদের যেকোনো প্রয়োজনে বিবদমান গ্রামম্বয়ের যেকোনো একটির শরণাপন্ন হত এবং সহায়তাও পেত। কিন্তু একসময় নানাবিধ কারণে 'ক' গ্রাম ভেঙে পড়লে 'খ' গ্রাম অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং তাকে বাধাদান করার মতো আর কোনো গ্রাম অবশিষ্ট থাকে না।
- ক)(1)
জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় কত সালে?
- খ)(2)
'গ্লাসনস্ত' কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত ঘটনা বিশ্বশক্তির ভারসাম্যকে নষ্ট করেছিল বলে কি। তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর জার্মানির আনুষ্ঠানিক একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় (বা ঐতিহাসিক পটভূমিতে বিসমার্কের নেতৃত্বে ১৮৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি জার্মান সাম্রাজ্য গঠিত হয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গ্লাসনস্ত' (Glasnost) হলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ কর্তৃক ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রবর্তিত একটি সংস্কারমূলক নীতি, যার অর্থ 'উন্মুক্ততা' বা 'খোলামেলা নীতি'।
এ নীতির উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে দীর্ঘদিনের সেন্সরশিপ ও গোপনীয়তা দূর করে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সরকারের কার্যক্রমের উন্মুক্ত সমালোচনা করার সুযোগ প্রদান করা, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত 'সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন' এবং শীতল যুদ্ধের (Cold War) অবসানের মিল পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—এই দুটি পরাশক্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতিতে দ্বিমেরু ব্যবস্থা (Bipolar world) গড়ে ওঠে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের যেকোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে এই দুই শিবিরের যেকোনো একটির সহায়তা গ্রহণ করত। উদ্দীপকে বর্ণিত বিবদমান দুটি গ্রাম 'ক' ও 'খ' যথাক্রমে এই দুই পরাশক্তির প্রতীক।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা ও বিভিন্ন সংস্কার নীতির কারণে পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ('ক' গ্রাম) ভেঙে পড়ে। এর ফলে অপর পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ('খ' গ্রাম) একক প্রভাবশালী শক্তি বা একমেরু পরাশক্তিতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে 'ক' গ্রাম ভেঙে পড়া এবং 'খ' গ্রামের অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার ঘটনাটির মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ও মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বাস্তব ইতিহাসকেই প্রতিফলিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও বিলুপ্তি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তির ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করেছিল।
এর স্বপক্ষে যুক্তি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. দ্বিমেরু ব্যবস্থার অবসান ও ভারসাম্যের বিনাশ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পারস্পরিক শক্তি ও সামরিক ভারসাম্যের (Balance of Power) মাধ্যমে একে অপরকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। ফলে এককভাবে কোনো শক্তি পুরো বিশ্বে স্বেচ্ছাচারিতা চালাতে পারত না। কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে ক্ষমতার সেই দীর্ঘস্থায়ী ভারসাম্য ভেঙে পড়ে।
২. একক পরাশক্তির উত্থান ও একমেরু বিশ্বব্যবস্থা: সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর ফলে বিশ্বরাজনীতিতে শুরু হয় 'একমেরু বিশ্বব্যবস্থা' (Unipolar World), যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি অবশিষ্ট ছিল না।
৩. আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একতরফা প্রভাব: ক্ষমতার ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় বিশ্বরাজনীতি, কূটনীতি, সামরিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণে পশ্চিমা বিশেষ করে মার্কিন একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পরাশক্তির একতরফা সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ভারসাম্য রক্ষার কোনো কার্যকর বিকল্প শক্তি ছিল না।সুতরাং, সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন বিশ্বশান্তির জন্য বহুপাক্ষিক বা দ্বিমুখী ভারসাম্য বজায় রাখার ঐতিহাসিক পরিবেশকে ব্যাহত করে বিশ্বশক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও