‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

করিম সাহেব তার এলাকার পিছিয়ে পড়া নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য ভাবধারার প্রসার এবং তাদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা গঠন, পত্রিকা প্রকাশ, ইংরেজি শিক্ষার জন্য স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তার ইচ্ছা ছিল শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে নিজ সম্প্রদায়কে কুসংস্কারমুক্ত ও অধিকার সচেতন করা।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    স্বদেশি আন্দোলন কী? ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে করিম সাহেবের কাজের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তির কাজের মিল পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ব্যক্তির কার্যক্রম তার সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কী ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছিল? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের যে আন্দোলন শুরু হয়, তাকে স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়।\n\nবঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন (বয়কট) এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও স্বদেশি দ্রব্যের ব্যবহারের ডাক দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিকভাবে ব্রিটিশদের ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে করিম সাহেবের কাজের সাথে পাঠ্যবইয়ের স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কাজের মিল পরিলক্ষিত হয়।\n\n১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশদের বৈরী মনোভাবের কারণে ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায় পাশ্চাত্য শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উপলব্ধি করেন যে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ ছাড়া মুসলমানদের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে 'সাইন্টিফিক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন, 'তাহজিবুল আখলাক' নামক পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং ১৮৭৫ সালে আলিগড়ে মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (পরবর্তীতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন।\n\nউদ্দীপকের করিম সাহেবও তার এলাকার পিছিয়ে পড়া নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিভিন্ন সংস্থা গঠন, পত্রিকা প্রকাশ এবং স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সার্বিক পদক্ষেপ স্যার সৈয়দ আহমদ খানের আলিগড় আন্দোলনের কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কার্যক্রম ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:\n\n১. আধুনিক শিক্ষার প্রসার: তাঁর প্রতিষ্ঠিত আলিগড় কলেজের মাধ্যমে মুসলমান সমাজ পাশ্চাত্য দর্শন, বিজ্ঞান ও ইংরেজি ভাষার সংস্পর্শে আসে, যা মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভিত্তি রচনা করে।\n\n২. কুসংস্কারমুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ: 'তাহজিবুল আখলাক' পত্রিকার মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজ থেকে মধ্যযুগীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার দূর করে মুক্তচিন্তা ও উদার মানসিকতা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।\n\n৩. সরকারি চাকরিতে সুযোগ সৃষ্টি: আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ফলে মুসলমানরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পায় এবং নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত করে।\n\n৪. রাজনৈতিক সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের মধ্যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অস্তিত্বের চেতনা জাগ্রত করেন, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়।\n\nসুতরাং বলা যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খানের সংস্কারমূলক কার্যক্রম ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম সমাজের পিছিয়ে পড়া অবস্থা দূর করে তাঁদের আত্মমর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দ্বার উন্মোচন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন