ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
- ক)(1)
আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধু ও মুলতানের রাজা কে ছিলেন?
- খ)(2)
আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থা কেমন ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত'?' স্থান কোন মুসলিম শাসককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ভারতে স্থায়ীভাবে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের অবদান রয়েছে- পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ কথাটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধু ও মুলতানের রাজা ছিলেন রাজা দাহির।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয় ও মর্যাদাহীন।
তৎকালীন সমাজে নারীদের কোনো স্বাধীনতা বা অধিকার ছিল না। সমাজে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং পর্দাপ্রথার প্রচলন ছিল। নারীদেরকে স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হতো এবং পিতার বা স্বামীর অধীনস্থ হিসেবে গণ্য করা হতো। এছাড়া স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে সহমরণে যেতে বাধ্য করা হতো, যা সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত ছিল। সার্বিকভাবে, নারীদের জীবন ছিল নানা বৈষম্য ও কুসংস্কারে জর্জরিত। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' চিহ্নিত স্থানটি মুসলিম শাসক মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী (সুলতান শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী)-কে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, '?' চিহ্নিত শাসকের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে গুজরাট আক্রমণ, পাঞ্জাব অধিকার, তরাইনের প্রথম যুদ্ধ ও তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এ সকল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন ঘুরী বংশের অন্যতম শাসক সুলতান শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী। তিনি ১১৭৮ সালে গুজরাট আক্রমণ করেন, পরবর্তীতে পাঞ্জাব জয় করেন। এরপর ১১৯১ সালে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে পরাজিত হলেও ১১৯২ সালে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তাঁকে পরাজিত করে উত্তর ভারতে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। তাই ছকে উল্লেখিত '?' স্থানে মুহাম্মদ ঘুরীকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ভারতে স্থায়ীভাবে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের অবদান রয়েছে"— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। উদ্দীপকে নির্দেশিত শাসক হলেন সুলতান শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী।
মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানের পূর্বে সুলতান মাহমুদ ভারতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে প্রভূত ধনসম্পদ নিয়ে গজনিতে ফিরে গিয়েছিলেন; তিনি ভারতে কোনো স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি। কিন্তু মুহাম্মদ ঘুরীর উদ্দেশ্য ছিল ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য গড়ে তোলা।
তিনি ১১৭৫ সাল থেকে ভারতে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করেন এবং মুলতান, উচ, সিন্ধু ও পাঞ্জাব অধিকার করেন। ১১৯২ সালে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি দিল্লির চৌহান শাসক পৃথ্বীরাজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যার মাধ্যমে ভারতে হিন্দু আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
মুহাম্মদ ঘুরী বিজিত অঞ্চলসমূহের শাসনভার তাঁর অত্যন্ত যোগ্য ও বিশ্বস্ত ক্রীতদাস সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের ওপর ন্যস্ত করেন। মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর কুতুবউদ্দিন আইবেক ১২০৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে 'দিল্লি সালতানাত' প্রতিষ্ঠা করেন। ঘুরীর সামরিক দূরদর্শিতা, ধারাবাহিক অভিযান এবং প্রশাসনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ভারতে সাড়ে তিন শত বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী দিল্লি সালতানাত এবং সামগ্রিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী মুসলিম শাসন বিকাশ লাভ করেছিল। অতএব, ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রকৃত কৃতিত্ব মুহাম্মদ ঘুরীরই প্রাপ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও