ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

আব্দুল হাই একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। এবারের রমজান মাসে তিনি তার সমুদয় সম্পদের হিসাব করে শতকরা আড়াইভাগ এতিম মিসকিনদের দান করলেন। দানের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখলেন। এতে তার মনে একধরনের প্রশান্তি লাভ করলেন। অপরদিকে তার প্রতিবেশী রানা কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, তার কাছে কারও গোপন কথা বললে প্রকাশ করে দেয়। তার কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলে আবার অস্বীকার করে।

  1. ক)

    'ইবাদত' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    সালাত আনুগত্য ও সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা দেয়। ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আব্দুল হাইয়ের কার্যক্রমে কোন ইবাদত পালন ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রানার কার্যক্রমের পরিণতি হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ইবাদত' শব্দের অর্থ চরম বিনয়, আনুগত্য ও দাসত্ব প্রকাশ করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সালাত মুমিনকে নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী দাঁড়ানো, বসা ও সিজদা করার মাধ্যমে নিখুঁত আনুগত্য শেখায়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য একটি আবশ্যকীয় কর্তব্য' (সুরা আন-নিসা: ১০৩)। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সঠিক সময়ে জামাতের সাথে আদায় করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং স্রষ্টার প্রতি শর্তহীন আনুগত্যের গুণাবলি গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্দুল হাইয়ের কার্যক্রমে ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ 'জাকাত' পালন ফুটে উঠেছে। শরিয়তের পরিভাষায়, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কর্তৃক বছরান্তে নির্ধারিত শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫%) অর্থ নির্দিষ্ট আটটি খাতের অভাবী লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়াকে জাকাত বলে। উদ্দীপকে আব্দুল হাই একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর সমুদয় সম্পদের হিসাব করে রমজান মাসে শতকরা আড়াই ভাগ দরিদ্র ও মিসকিনদের মাঝে প্রদান করেছেন এবং ইখলাসের সাথে তা গোপনে সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং তাঁর এ কাজটি যথাযথভাবে ফরজ ইবাদত জাকাত পালনের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রানা কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আমানতের খিয়ানত করে এবং ওয়াদা ভঙ্গ করে; হাদিসের আলোকে এগুলো সুস্পষ্ট মুনাফিকের লক্ষণ এবং এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে' (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। উদ্দীপকে রানার আচরণে এই তিনটি লক্ষণই সরাসরি বিদ্যমান। কুরআন ও হাদিসে মুনাফিকদের পরিণাম সম্পর্কে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে; পবিত্র কুরআনে এসেছে, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।' এছাড়া মিথ্যা ও ওয়াদা ভঙ্গের কারণে মানুষ দুনিয়াতেও আস্থা হারায় এবং পরকালে আল্লাহর কঠিন আজাবে নিপতিত হয়। অতএব, হাদিস অনুযায়ী রানা মুনাফিকসুলভ পাপকাজে লিপ্ত এবং তওবা না করলে তার পরিণতি হবে জাহান্নামের নিকৃষ্টতম আযাব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন