ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি আন্তঃ কলেজ প্রতিযোগিতায় "কুরআনকে কেন আল্লাহর বাণী হিসাবে বিশ্বাস করব?" বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এক বিতার্কিক দাবি করেন, কুরআনের ভাষা ও বক্তব্য মানবসৃষ্ট নয়। এর বড় প্রমাণ এর সমতুল্য কিছু রচনা করা অসম্ভব। তার বিপরীতে এক প্রতিযোগী বলেন, "যদি এটি সত্য হয় তবে এমন কোনো চ্যালেঞ্জ থাকা উচিত যা এই দাবিকে যাচাই করতে পারে।" বিতর্ক চলাকালীন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণের আহ্বান শুনতে পেলেন। মঈনুদ্দীন পবিত্র হয়ে বিশেষ গৃহে গিয়ে অনেকে এক সাথে প্রভুতে সমর্পিত হলো। প্রার্থনা শেষে প্রশান্ত চেহারা নিয়ে বাসায় ফিরল।
- ক)(1)
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে কুরআনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেল্লখিত দুই বিতার্কিকের বক্তব্যের সপক্ষে কুরআনের কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মঈনুদ্দীনের কার্যক্রম কীভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়ক হবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আখিরাত’ শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আল-কুরআন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিখুঁত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিধিবিধান কুরআনেই বর্ণিত রয়েছে। তাই একটি শান্তিপূর্ণ ও ইনসাফভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে কুরআনের বিধিবিধান বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই বিতার্কিকের বক্তব্যের সপক্ষে পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আল-কুরআন যে আল্লাহ তায়ালার অবতীর্ণ কিতাব এবং তা কোনো মানুষের তৈরি নয়, তা প্রমাণের জন্য স্বয়ং আল্লাহ অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা যদি এ কিতাব সম্পর্কে কোনো সন্দেহে থাকো যা আমি আমার বান্দার ওপর নাজিল করেছি, তবে এর মতো একটি সুরা রচনা করে আনো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও” (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩)। এছাড়া সুরা আল-ইসরায় বলা হয়েছে, মানব ও জিন সমাজ একত্রিত হলেও এ কুরআনের অনুরূপ রচনা করতে পারবে না। অতএব, কুরআনের এই অলৌকিকত্ব ও অপূরণীয় চ্যালেঞ্জই প্রমাণ করে যে এটি মানব রচিত নয়, বরং আল্লাহর বাণী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মঈনুদ্দীনের কার্যক্রমটি ছিল আজানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে সালাত আদায় করা, যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
ইসলামে সালাত হলো বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার আত্মিক যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “বান্দা সিজদারত অবস্থায় আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়।” উদ্দীপকে মঈনুদ্দীন স্রষ্টাকে স্মরণের আহ্বান (আজান) শুনে পবিত্রতা অর্জন করে বিশেষ গৃহে (মসজিদ) গিয়ে জামাতে প্রভুতে সমর্পিত হন। জামাতে সালাত আদায়ের ফলে আত্মিক পবিত্রতা বাড়ে এবং একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। নামাজ মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে, পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে এবং হৃদয়কে প্রশান্ত করে। ফলে এমন একনিষ্ঠ ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে বান্দা সরাসরি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য বা নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও